স্বচ্ছতার নয়া দিগন্ত! সুপারিশপত্র পাওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যেই করতে হবে এই কাজ, SSC-র বড় সিদ্ধান্ত

অবশেষে অপেক্ষার অবসান! স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আর নিয়োগের ঘন্টা বাজতেই SSC দেখাচ্ছে তাদের ‘ক্লিন ইমেজ’। সূত্রের খবর, চাকরিপ্রার্থী কোন স্কুলে পোস্টিং পাচ্ছেন, সেই সুপারিশপত্র হাতে পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তা SSC-র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! আপনার মেধা তালিকা, আপনার র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী আপনি কোন জেলার কোন বিদ্যালয়ে চাকরি পেলেন, নিয়োগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে কমিশন। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার এক নতুন বার্তা দিতে চলেছে SSC।

ইতিমধ্যেই পরীক্ষার দিনক্ষণও জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হবে লিখিত পরীক্ষা, আর কাউন্সেলিং চলবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই রাজ্য সরকার প্রকাশ করেছে নয়া নিয়োগ বিধি। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন খাতে কত নম্বর বরাদ্দ। পুরনো নিয়মের অনেক কিছুই বদলেছে, পাল্টেছে নম্বরের বিভাজন রীতি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা (মোট ৬০ নম্বর), শিক্ষাগত যোগ্যতা (১০ নম্বর), শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা (১০ নম্বর), ইন্টারভিউ এবং ক্লাস করানোর দক্ষতার উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে চূড়ান্ত প্যানেল।

নিয়োগ বিধিতে আরও জানানো হয়েছে, OMR শিটে নেওয়া হবে ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর থাকলে সরাসরি ১০ নম্বর। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে পেলে ৮ এবং ৫০ শতাংশের কম পেলে ৬ নম্বর বরাদ্দ।

শুধু তাই নয়, কর্মরত শিক্ষকদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা। শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য রাখা হয়েছে ১০ নম্বর। সরকারি বা সরকারি নিয়ন্ত্রিত স্কুলে প্রতি বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য মিলবে ২ নম্বর। অর্থাৎ, পাঁচ বছর বা তার বেশি অভিজ্ঞতা থাকলে ঝুলিতে পুরে নেওয়া যাবে পুরো ১০ নম্বর।

SSC-র এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনবে এবং চাকরিপ্রার্থীদের মনে আস্থার সঞ্চার করবে, এমনটাই মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ। এখন দেখার, কমিশন তাদের এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে।