বিশেষ: আকাশে দেখা গিয়েছে পবিত্র চাঁদ, জেনেনিন ভারতে বকরি ইদ কবে?

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বকরি ইদ, যা ঈদ-উল-আজহা নামেও পরিচিত, আগামী ৭ই জুন, শনিবার ভারতজুড়ে উদযাপিত হতে চলেছে। এই উৎসব কেবল পশু কোরবানির প্রতীক নয়, এটি আল্লাহ্‌র প্রতি সমর্পণ, ত্যাগ এবং মানবতার গভীর বার্তাও বহন করে।

ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বকরি ইদ ইসলামিক বর্ষপঞ্জির শেষ মাস জুল হিজ্জার দশম দিনে পালিত হয়। গত ২৭শে মে, মঙ্গলবার সৌদি আরবে মাগরিবের নামাজের পর জুল হিজ্জার চাঁদ দেখা যায়। এর ভিত্তিতে সৌদি সরকার ঘোষণা করেছে যে, সেখানে ৬ই জুন বকরি ইদ উদযাপিত হবে।

সৌদি আরবে চাঁদ দেখার একদিন পর, অর্থাৎ ২৮শে মে, বুধবার ভারতেও চাঁদ দেখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯শে মে, বৃহস্পতিবার থেকে ভারতে জুল হিজ্জা মাসের সূচনা হয়। সেই হিসেব অনুযায়ী, জুল হিজ্জা মাসের দশম দিনে, অর্থাৎ ৭ই জুন, শনিবার ভারতজুড়ে ঈদ-উল-আজহা বা বকরি ইদ পালিত হবে।

কেন এই উৎসবকে ‘বকরি ইদ’ বলা হয়?

জুল হিজ্জা মাসের এই দশম দিনে মুসলিমরা মক্কা শহরে হজ সম্পন্ন করার পর ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করেন। প্রতিটি ইসলামী উৎসবের মতোই, বকরি ইদও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এই দিনে পশু কোরবানির একটি বিশেষ প্রথা রয়েছে। ‘কোরবানি’ শব্দের অর্থ হলো ত্যাগ। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, ত্যাগের মাধ্যমেই আল্লাহ্‌র নৈকট্য অর্জন করা যায়, আর এই নৈকট্য অর্জনকেই বলা হয় কোরবানি। ‘ইদ’ শব্দের অর্থ আনন্দ, এবং ‘আধা’ বলতে বোঝায় পশু কোরবানি করা। এই পরবে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মূলত পাঁঠা, ছাগল বা ভেড়া জাতীয় পশু কোরবানি করেন। যেহেতু হিন্দিতে এই প্রাণীগুলিকে ‘বকরি’ বলা হয়, তাই এই ইদ ‘বকরি ইদ’ নামেও পরিচিত।

বকরি ইদের ঐতিহাসিক তাৎপর্য:

বকরি ইদ মূলত হজরত ইব্রাহিমের ত্যাগের মহিমাকে স্মরণ করে পালিত হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, আল্লাহ্‌ হজরত ইব্রাহিমকে স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু, অর্থাৎ নিজের পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ্‌র নির্দেশ পালন করতে ইব্রাহিম তাঁর প্রাণের চেয়েও প্রিয় পুত্রকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। তিনি নিজের চোখ বেঁধে কোরবানি সম্পন্ন করেন। কিন্তু চোখ খুলে তিনি দেখেন, তাঁর পুত্র ইসমাইল অক্ষত অবস্থায় তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়েছে। আল্লাহ্‌ ইব্রাহিমের এই অবিচল বিশ্বাস ও ত্যাগের মনোভাবকে পরীক্ষা করেছিলেন। সেই মহিমান্বিত ত্যাগ ও আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্যের প্রতীক হিসেবেই প্রতি বছর ঈদ-উল-আজহা বা বকরি ইদ উদযাপিত হয়।