আর্থিক কেলেঙ্কারি ও বিপাকের মুখে আরশাদ ও তাঁর স্ত্রী, সেবি’র কড়া পদক্ষেপ

বলিউড অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি এবং তাঁর স্ত্রী মারিয়া গোরেত্তি একটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন। সাধনা ব্রডকাস্টের শেয়ার নিয়ে বিভ্রান্তিকর ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার অভিযোগে সেবি (SEBI) তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। এই ঘটনায় ওয়ার্সি দম্পতি ছাড়াও আরও ৫৭ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের ১ থেকে ৫ বছরের জন্য শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

কী ঘটেছে?
সেবি-র ১০৯ পৃষ্ঠার নির্দেশ অনুযায়ী, এই পরিকল্পিত জালিয়াতি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম ধাপে, সাধনা ব্রডকাস্টের প্রোমোটারদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছোট ছোট লেনদেন করে শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেন। এর ফলে বাজারে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়। দ্বিতীয় ধাপে, মণীশ মিশ্র পরিচালিত ইউটিউব চ্যানেল ‘মানিওয়াইজ’, ‘দ্য অ্যাডভাইজার’, এবং ‘প্রফিট যাত্রা’-তে ভুয়ো ভিডিও আপলোড করা হয়। এই ভিডিওগুলির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সাধনা ব্রডকাস্টের শেয়ার কিনতে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল, যার ফলে শেয়ারের দাম আরও বেড়ে যায়।

২০২২ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিযোগ পাওয়ার পর সেবি এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, আরশাদ ওয়ার্সি এই ভিডিওগুলির প্রচার করে ৪১.৭০ লক্ষ টাকা এবং মারিয়া গোরেত্তি ৫০.৩৫ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে লাভ করেছেন।

সেবি-র নির্দেশ
সেবি আরশাদ ওয়ার্সি এবং মারিয়া গোরেত্তিকে এক বছরের জন্য শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং তাঁদের দু’জনকেই ৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছে। এছাড়াও, তাঁদের দু’জনকেই মোট ১.০৫ কোটি টাকা অবৈধ উপার্জনের ১২ শতাংশ বার্ষিক সুদ-সহ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত আরও ৫৭ জনকে ৫ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে এবং তাঁদের কাছ থেকে মোট ৫৮.০১ কোটি টাকা সুদ-সহ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূল অভিযুক্তরা কারা?
সেবি-র তদন্তে গৌরব গুপ্ত, রাকেশ কুমার গুপ্ত এবং মণীশ মিশ্রকে এই পুরো ঘটনার মূল ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও, সুভাষ আগরওয়াল (যিনি সাধনা ব্রডকাস্টের আরটিএ-র ডিরেক্টর ছিলেন এবং মণীশ মিশ্র ও প্রোমোটারদের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছিলেন), পীযূষ আগরওয়াল, লোকেশ শাহ এবং যতীন শাহের মতো ব্যক্তিরা এই জালিয়াতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এঁরা প্রত্যেকেই এই জালিয়াতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন।

এই ঘটনা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক বার্তা দিচ্ছে যে, কোনও রকম ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।