‘কল্কি’তে প্রভাসের পোশাক ডিজাইন করা ছিল চ্যালেঞ্জিং’ জানালেন অর্চনা রাও

প্রাচীন দ্বাপর যুগ থেকে ভবিষ্যৎ কলিযুগ—এই বিশাল সময়কালের জন্য পোশাক ডিজাইন করা মোটেই সহজ কাজ নয়। কস্টিউম ডিজাইনার অর্চনা রাও সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র জন্য এই কঠিন চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন। পর্দায় প্রভাসের পোশাকের মাধ্যমে তিনি সত্যিই জাদু দেখিয়েছেন। সম্প্রতি তেলেঙ্গানা সরকার আয়োজিত ‘গদ্দার চলচ্চিত্র পুরস্কার’-এ সেরা কস্টিউম ডিজাইনার হিসাবে সম্মানিত হয়েছেন অর্চনা। পর্দার পেছনের তাঁর অনুপ্রেরণা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা ইটিভি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই ডিজাইনার।
হায়দরাবাদে বেড়ে ওঠা অর্চনা ছোটবেলা থেকেই শিল্প ও কারুশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, যার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন মায়ের হস্তশিল্প থেকে। অর্চনা বলেন, “আমি সবসময় চিত্রকলা এবং অঙ্কনের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। যখন আমি মাধ্যমিক শেষ করি, তখন ফ্যাশন দুনিয়ার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মায়। সৃজনশীল ক্ষেত্র আমার কাছে ভালোবাসার এক বিশাল জায়গা।”
এনআইএফটি (NIFT) থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করার পর, অর্চনা নিউইয়র্কে ফ্যাশনের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। আমেরিকায় কয়েক বছর ডিজাইনার হিসেবে কাজ করার পর তিনি ভারতে ফিরে এসে নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘অর্চনা রাও’ খোলেন। ২০১৩ সালে তাঁর কাজ ভোগ ফ্যাশন ফান্ড অ্যাওয়ার্ড জেতে।
পরিচালক নাগ অশ্বিনের হাত ধরে অর্চনা সিনেমার জগতে পা রাখেন। প্রথম সুযোগ পান ‘মহানতি’ সিনেমায় তারকাদের পোশাক ডিজাইন করার। অর্চনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি সিনেমা ভালোবাসি। আমার পরিবার সাবিত্রী গারুর বিশাল ভক্ত। দুলকার সালমান, বিজয় দেবেরাকোন্ডা, সামান্থা এবং রাজেন্দ্র প্রসাদের জন্য পোশাক ডিজাইন করা আমার কাছে সম্মানের বিষয় ছিল। এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়ায় আমি রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম।” এরপর তিনি ‘পিত্ত কাথালু’ এবং ‘সীতারামম’ ছবিতে ম্রুণাল ঠাকুরের জন্য শাড়ি ডিজাইন করেন।
‘কল্কি’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অর্চনা জানান, “নাগ অশ্বিন পাঁচ বছর আগে এই বিষয়ে আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই ধরনের সিনেমার বিশালতা দেখে আমি প্রথমে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিচালক আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন।” তিনি জানান, এই সিনেমায় শাড়ির ডিজাইন করার জন্য তিনি তাঁর মায়ের পুরনো শাড়ির নকশা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। অর্চনা আরও বলেন, “এই সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের চরিত্র অশ্বত্থামা, যিনি অমর। সেই টাইমলেস পিরিয়ড দেখানোর জন্য আমরা খদ্দরের পোশাক ব্যবহার করেছিলাম। অমিতাভজি নিজের লুক টেস্ট নিয়ে ভীষণ সচেতন ছিলেন এবং আমাকেও অনেক অনুপ্রাণিত করেছেন।”
প্রভাসের পোশাক পরিকল্পনা নিয়ে অর্চনা বলেন, “অভিনেতার বাউন্টি হান্টার স্যুট তৈরি করা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রায় ২ মাস লেগেছিল পোশাক ডিজাইন করতে। পোশাকের উপকরণ এখানে পাওয়া যায়নি, তাই আমাদের তা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনতে হয়েছিল। আমরা সকাল ৬টা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত কাজ করতাম, চোখে ঘুম ছিল না। এমনকি, এক লড়াইয়ের দৃশ্য করার সময় পোশাকটি ছিঁড়ে যায় এবং আমাদের তা পুনরায় ঠিক করতে হয়েছিল।”
শেষে অর্চনা পরিচালক নাগ অশ্বিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এই সিনেমায় পোশাক ডিজাইনের জন্য সেরা কস্টিউম ডিজাইনারের পুরস্কার জেতার পর তিনি বলেন, “যখন সুযোগ আসে, দ্বিধা ছাড়াই এগিয়ে যাওয়া উচিত। সাফল্য তোমাকে অনুসরণ করবেই।”