OMG! ইউনিফর্ম পরেই দেদার রিলস বানাচ্ছে পুলিশের, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জোর বিতর্ক

“মুঝে দুনিয়াওয়ালো শরাবি না সমঝো, ম্যায় পিতা নেহি হুঁ, পিলায়ি গ্যায়ি হ্যায়” – পুলিশের উর্দি পরে এমন হিট গানের রিলস তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলা আর চলবে না! দিল্লি পুলিশের নিচু থেকে উঁচু সব মহলে এখন এই ‘রিলস আতঙ্ক’ নিয়ে তোলপাড় চলছে। অভিযোগ, কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশকর্মীদের এই রিলস তৈরির নেশা সীমা ছাড়াচ্ছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখে রীতিমতো চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে। এমনকি মহিলা কনস্টেবলরাও নাকি পুরুষকর্মীদের মতো এই রিলস বানানোর খেলায় মেতে উঠেছেন।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম-সহ অন্যান্য সামাজিক প্ল্যাটফর্মে পুলিশের উর্দি পরা রিলসের বন্যা বইছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে দিল্লির পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় অরোরাকে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সব জ়োনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি)-দের উদ্দেশে একটি ডিপার্টমেন্টাল মেমোর্যান্ডাম জারি করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনোভাবেই পুলিশের উর্দি পরে কোনো রিলস তৈরি করা যাবে না। এমন কাজকে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে দেখা হবে, কারণ কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের উর্দির ‘অসম্মান’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বাংলায়ও একই প্রবণতা: পুলিশের কাজের রিলসে অনুমোদন, ব্যক্তিগত রিলসে নিষেধাজ্ঞা
সম্প্রতি কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশেও এ ভাবে রিলস বানানোর প্রবণতা সামনে এসেছিল। উর্দি পরে বিভিন্ন রিলস আপলোড করতে দেখা যায় পুলিশকর্মী ও অফিসারদের। রাজ্যের পুলিশকর্তারা তখন জানান, পুলিশের অফিশিয়াল পেজে, পুলিশের কাজ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই কেবল রিলস বানানো যাবে। অন্যথায়, উর্দি পরে ব্যক্তিগত রিলস আপলোড করা যাবে না।
দিল্লি পুলিশ ২০২৩ সালে একটি সোশ্যাল মিডিয়া গাইডলাইন তৈরি করেছিল, যেখানে নাগরিক এবং পুলিশ কর্মী-আধিকারিক উভয়ের জন্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার নিয়মাবলী তুলে ধরা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ কমিশনারের জারি করা মেমোর্যান্ডামে জানানো হয়েছে যে, উর্দি পরিহিত পুলিশকর্মীরা সেই গাইডলাইন ভঙ্গ করছেন। ১৫ জুনের মধ্যে এই সমস্যা মেটানোর জন্য সব ডিসিপি-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের একাংশ রাস্তায় ডিউটি না করে নিকটস্থ পুলিশ চৌকিতে বসে মোবাইলে চোখ রেখে ডিউটি আওয়ার পার করে দিচ্ছেন। এই মারাত্মক প্রবণতা বন্ধ করারও নির্দেশ এসেছে।
দিল্লি পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে নির্দেশ এসেছে, পুলিশকর্মীদের চারপাশ ঘুরে দেখতে হবে এবং ‘ফার্স্ট লাইন অফ ডিফেন্স’-এর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এই নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রতি মাসে দু’বার জ়োনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি-দের বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশনারের অফিসে জমা দিতে হবে।
এই কড়া নির্দেশিকাগুলি দিল্লি পুলিশের কার্যকারিতা ও শৃঙ্খলায় কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।