বঙ্গে সময়ের আগেই বর্ষার আগমন! সঙ্গে রাখুন ছাতা আরও বাড়বে দুর্যোগ; বৃষ্টি নিয়ে আলিপুরের মেগা আপডেট জানুন

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের সতর্কতার মধ্যেই আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর রাজ্যবাসীর জন্য বর্ষা নিয়ে এক বড় আপডেট দিয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সময়ের আগেই বঙ্গে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু, যা রাজ্যজুড়ে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে।
হাওয়া অফিসের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল যে, এবার সময়ের আগেই কেরালায় প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। বর্তমানে মুম্বই, আলিয়ানগর, আদিলাবাদ, ভবানীপট্টন, পুরী, স্যান্ডহেডস এবং বালুরঘাট দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর সীমারেখা বিস্তৃত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১-২ দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে পারে, কারণ মৌসুমী বায়ুর অগ্রসরের জন্য পরিবেশ অনুকূল রয়েছে।
পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির রেকর্ড অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এত আগে বাংলায় বর্ষার আগমন ঘটেনি। সাধারণত ভারত ভূখণ্ডে জলীয় বাষ্পে ভরা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে ১ জুন। তবে এ বছর তার ৮ দিন আগে, ২৪ মে কেরালায় বর্ষা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাসের অন্য একটি শাখা বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে এগিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের পর উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যেও বর্ষা নামিয়েছে কিছুদিন আগেই। এরপর বাংলায় বর্ষা কবে প্রবেশ করবে, সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটল বৃহস্পতিবার।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, মে মাসের শেষ দু’দিন এবং জুন মাসের প্রথম পাঁচ দিন অন্তত রাজ্যের জেলায় জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। যদিও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির মূল কারণ হলো বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। এই নিম্নচাপটি সমুদ্র ছেড়ে স্থলভাগে প্রবেশ করার পর প্রাকৃতিক নিয়মে শক্তি হারাতে শুরু করবে, কারণ স্থলভাগে জলীয় বাষ্পের জোগান থাকে না। তবে শক্তি হারালেও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির আবহ আগামীকাল, শনিবার পর্যন্ত বজায় থাকবে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ, শুক্রবার এবং কাল, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনো কোনো জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির আবহ পরশু, রবিবার পর্যন্ত বজায় থাকবে। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, আজ, শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবারও রাজ্যের উত্তর দিকের জেলাগুলোয় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি। সেখানে রবিবারও বৃষ্টি হবে।
বৃহস্পতিবারেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাতেও ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাস আছে ভারী বর্ষার। সেক্ষেত্রে সরকারের যা যা করণীয় সব করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে তিনি নিজেও বৈঠক করেছেন, জেলার প্রত্যেক ব্লকে ব্লকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোথাও প্রয়োজন হয় ত্রাণ শিবির বা মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, সব তৈরি করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলছে। সমুদ্রে যাওয়া থেকে মৎস্যজীবীদের সতর্কতা রয়েছে। জেলা প্রশাসনকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। ত্রাণের বিষয়টাও তৈরি রাখা হয়েছে।”
এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অতি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্র ও শনিবার দু’দিনই সমুদ্র উত্তাল থাকবে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে দক্ষিণবঙ্গে একটি বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কায় সবার নজর যখন বঙ্গোপসাগরে আটকে, ঠিক সেই সময়েই কিছুটা চুপিসাড়ে রাজ্যে প্রবেশ করল বর্ষা। এই অকাল বর্ষা রাজ্যবাসীর জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।