বিশেষ: একই এলাকার সর্বত্র একইসাথে বৃষ্টি হয়না কেন? জেনেনিন এই নিয়ে কি বলছে বিজ্ঞানীরা?

তীব্র বজ্রবৃষ্টির সময় এক অংশে বৃষ্টি হলেও অন্য অংশ শুকনো থাকে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। এর কারণ কী? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বজ্রমেঘের ত্রিমাত্রিক গঠন এবং শহরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য।
আবহাওয়াবিদদের মতে, একটি তীব্র বজ্রমেঘের গঠন ত্রিমাত্রিক হয়। এর দৈর্ঘ্য সাধারণত ২২ থেকে ২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, প্রস্থ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং উচ্চতা ৮ থেকে ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
“অর্থাৎ, বজ্রমেঘের একটি ত্রিমাত্রিক গঠন থাকে। এমন একটি শক্তিশালী বজ্রঝড় যখন অগ্রসর হয়, তখন এর আয়তন কমবেশি হতে পারে,” বলেন একজন জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ।
আঁকাবাঁকা পথে বজ্রঝড়,শহরের প্রভাব
সাধারণত বজ্রঝড়ের গতিবেগ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে, অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হয়। এর অর্থ হলো, “বড় লম্বা একটা জায়গার মাঝ দিয়ে কম চওড়া একটি জিনিস যাচ্ছে।”
বজ্রঝড়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সরল পথে চলে না, বরং আঁকাবাঁকা পথে চলে। আবহাওয়াবিদ মল্লিক যোগ করেন, “যেহেতু সে জিগজ্যাগ বা স্পাইরাল মুভমেন্ট করে এবং শহরের মাঝে অনেক স্থাপনা থাকার কারণে বা পাহাড় থাকলে বাতাস বিভিন্ন জায়গায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করে; তাই, বজ্রঝড় অগ্রসর হওয়ার সময় সে কোনো এলাকাকেই পূর্ণরূপে কভার করতে পারে না।”
এই কারণেই কোথাও কোথাও বজ্রঝড়ের তাণ্ডব কম হয়, কোথাও বেশি হয়। কোথাও বৃষ্টিপাত প্রচুর হয়, আবার কোথাও একদমই বৃষ্টি হয় না। মল্লিকের মতে, “ভূমিরূপ বা টপোগ্রাফি অব দ্য আর্থ সারফেস এখানে গুরুত্বপূর্ণ।”
এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বজ্রবৃষ্টির অসম বণ্টনের পেছনে প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণই বিদ্যমান।