“প্রথমে ৭০০ টাকা ঠিক হলেও পরে দাবি…?”-মার্কিন পর্যটককে গালিগালাজ ও হুমকি ট্যাক্সিচালকের

কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই এক অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হলেন মার্কিন পর্যটক এবং জনপ্রিয় ভ্লগার ডাস্টিন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেছেন, একজন স্থানীয় ট্যাক্সিচালক তাঁকে ভুল পথে নিয়ে গিয়ে ভাড়ার নামে প্রতারণা করেছেন, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং কলকাতা পুলিশের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
ডাস্টিন জানান, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে পার্ক স্ট্রিটের ‘হোটেল গ্রেট ওয়েস্টার্ন’-এর উদ্দেশ্যে তিনি একটি স্থানীয় ট্যাক্সি নিয়েছিলেন। কিন্তু চালক তাঁকে ১৫ কিলোমিটার দূরে রাজারহাটের ‘দ্য ওয়েস্টার্ন হোটেল’-এ নিয়ে যান, যা তাঁর আসল গন্তব্য থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি এলাকা।
এই সময় একটি লাল শার্ট পরা ব্যক্তি, যাঁর সঙ্গে চালকের যোগসাজশ ছিল বলে ডাস্টিনের দাবি, তিনি অত্যন্ত আগ্রাসী ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং ডাস্টিনকে হুমকি দেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আমার সঙ্গে মাফিয়ার যোগাযোগ আছে, আমি তোমার হাড় ভেঙে দেব।”
ডাস্টিন আরও জানান, প্রথমে ট্যাক্সির ভাড়া ৭০০ টাকা ঠিক হলেও, চালক পরে ৮০০ টাকা দাবি করেন এবং এরপর তা বেড়ে ১০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। ডাস্টিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তুমি ভুল জায়গায় নিয়ে এসেছো, এখন আমাকে আরও বেশি টাকা দিতে বলছো!” এরপর আবারও গাড়ি থামিয়ে ডাস্টিনকে অন্য ট্যাক্সিতে উঠে যেতে বলা হয়। এই সময়ে সেই আগ্রাসী ব্যক্তি ‘পার্কিং চার্জ’ হিসেবে অতিরিক্ত ১০০ টাকা দাবি করেন।
ডাস্টিনের এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। বহু নেটিজেন কলকাতা পুলিশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একজন মন্তব্য করেন, “এটা আমাদের জন্য লজ্জার, মানুষের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।” অনেকে ভিডিওটি কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে ট্যাগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ডাস্টিন নিজেও ভিডিওতে বলেছেন, “ভারতে আমার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো ছিল। এই একটি ঘটনার জন্য আমি দেশকে ঘৃণা করতে পারি না। তবে ভবিষ্যতে এলোমেলো ট্যাক্সির পরিবর্তে শুধু অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার উপরই নির্ভর করব।”
এই ঘটনা কলকাতার পর্যটন শিল্পের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে এবং বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। কলকাতা পুলিশ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কতোটা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।