Weather: বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি এখন ঠিক কোথায়? জেনেনিন ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে স্পেশাল বুলেটিন

বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি নিম্নচাপটি ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই এটি পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। বর্তমানে নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে, সাগরদ্বীপ থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে এবং দিঘা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।
নিম্নচাপের গতিপথ ও প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উত্তর দিকে এগিয়ে যাবে এবং সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝামাঝি উপকূলে আছড়ে পড়বে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলাভিত্তিক বৃষ্টির পূর্বাভাস
দক্ষিণবঙ্গ:
আজ ২৯ মে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে ভারী (৭–১০ সেমি) থেকে অতি ভারী (১২–২০ সেমি) বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই ৭–১১ সেমি বৃষ্টি হতে পারে। এরপর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সতর্কতা বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গ:
উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে শুক্রবার লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণ হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও কোচবিহারেও। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমুদ্র উত্তাল, মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা
উত্তর এবং সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে বৃহস্পতিবার ঝোড়ো হাওয়া বইবে। উপকূলবর্তী ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫–৬৫ কিমি পর্যন্ত থাকতে পারে। এই কারণে ২৮ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য মৎস্যজীবীদের কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বর্ষার অপেক্ষা ও কলকাতার আবহাওয়া
কেরলে বর্ষা ঢুকে পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা প্রবেশ করেনি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এই নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি অনেকাংশেই নির্ধারণ করবে বর্ষা ঠিক কবে থেকে রাজ্যে প্রবেশ করবে।
বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি কম) এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৭ ডিগ্রি কম)। আকাশ মেঘলা এবং ঠান্ডা বাতাসের অনুভব থাকলেও বৃষ্টির জন্য শহরবাসীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।