আজ উত্তরবঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী, জেনেনিন দিনভর রয়েছে কী কী কর্মসূচি?

আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ১,০১০ কোটি টাকার সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি। আলিপুরদুয়ারে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
কিছুক্ষণ পরই হাসিমারায় পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। আজ ১০টায় বাগডোগরা নামবেন। এরপর যাবেন সিকিম। তারপর আসবেন আলিপুরদুয়ার। এরপর বেলায় তিনি আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক সভায় আসবেন। সিকিমে তিনি একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করবেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত অটলবিহারী বাজপেয়ীর মূর্তি উন্মোচন করবেন। এর পরে হেলিকপ্টারেই পৌঁছবেন আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে। দুপুর ২টো নাগাদ এ রাজ্যের আলিপুরদুয়ারে পৌঁছোনোর কথা মোদীর। প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রথমে প্রশাসনিক মঞ্চে যাবেন তিনি। দুপুর ২টো ১৫ নাগাদ সেই মঞ্চ থেকে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার জন্য ১০১০ কোটি টাকার ‘সিটি গ্যাস সরবরাহ’ প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। ৩টে নাগাদ জনসভার মঞ্চে পৌঁছবেন মোদী। সেখান থেকে ভাষণ দেবেন।
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) অনুসারে, এই CGD প্রকল্পটি আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার আড়াই লক্ষেরও বেশি পরিবারে পাইপযুক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) সরবরাহ করবে। এর মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক ও শিল্প ইউনিট উপকৃত হবে। এছাড়াও, ১৯টি সিএনজি স্টেশনও স্থাপন করা হবে। সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পটি এলাকায় পরিষ্কার, সাশ্রয়ী মূল্যের এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ‘পরিযায়ী পাখি’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রশ্ন তুলেছে, “যেহেতু পরিযায়ী পাখিরা বাংলায় আসছে, কেন একটি সহজ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না, কেন কেন্দ্র বাংলার ১.৭ লক্ষ কোটি টাকার বৈধ পাওনা আটকে রাখছে?” কুণাল ঘোষ আরও দাবি করেন, “খালি হাতে আসছেন, মিথ্যে পোস্ট করছেন?”
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই বিজেপি একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লা সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এলাকার উন্নয়ন বন্ধ করার অভিযোগ এনে তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেছেন।
আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়েছেন যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকরা। তাদের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৫ মিনিটের সাক্ষাতের দাবি নিয়ে আলিপুরদুয়ারে পৌঁছেছে। চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “আমরা আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমরা স্থানীয় সাংসদ, বিজেপি জেলা সভাপতি এবং জেলাশাসকের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছি। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনুন এবং সমাধান বের করুন।”
রাজ্য বিজেপি সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কর্মসূচি এবং জনসভা উভয়ই আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বিজেপি আশা করছে, আলিপুরদুয়ারের এই সমাবেশ তৃণমূল স্তরে দলকে সাংগঠনিক শক্তি দেবে। বিজেপির একজন প্রবীণ নেতা বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেব।” প্রধানমন্ত্রী শিলিগুড়ি থেকে সন্ধেয় পাটনার উদ্দেশে রওনা হবেন।