ট্রাম্প-মাস্ক জুটিতে ভাঙন, মার্কিন প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করলেন টেসলার মালিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে “ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্মেন্ট এফিশিয়েন্সি” (DOGE) এর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধনকুবের এলন মাস্ক। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকে মাস্ক ও ট্রাম্পের এই জোট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মাস্ক নিজেই একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
মাস্ক তার পোস্টে বলেছেন, “মার্কিন সরকারের একজন বিশেষ কর্মচারী হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হয়েছে। অপচয়মূলক সরকারি ব্যয় কমানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে DOGE-এর লক্ষ্য আরও শক্তিশালী হবে।”
দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল যে DOGE-এর কাজ দেখাশোনা করার কারণে মাস্ক তার নিজস্ব ব্যবসায় পর্যাপ্ত মনোযোগ দিতে পারছিলেন না। এই পদত্যাগের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়ে মাস্কের অসন্তোষকে ধরা হচ্ছে। মাস্ক এই বিল প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন, “হয় একটি বিল বড় হবে অথবা দুর্দান্তও হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না একই সঙ্গে দুটোই হতে পারে।” তার এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নতুন বিলের সাথে তার মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা মাস্কের মার্কিন সরকার ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাস্ক ১৩০ দিন ধরে মার্কিন সরকারের একজন বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।
মাস্কের এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো যখন তার মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা টেসলার বিক্রি ক্রমাগত কমছে। টেসলার শেয়ারের অব্যাহত পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই মাস্কের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন। আমেরিকায় টেসলা ব্যাপক বয়কটের মুখে পড়েছে, যার প্রভাব গাড়ির বিক্রি এবং শেয়ারের মূল্যের ওপর স্পষ্ট।
সম্প্রতি টেসলার শেয়ারের পতনের মধ্যে মাস্ক নিজেও একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে তার পক্ষে এতগুলি ব্যবসা একসাথে পরিচালনা করা “খুব কঠিন” হয়ে উঠছিল। এই পদত্যাগ মাস্ককে তার মূল ব্যবসায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা টেসলার বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি।