পাক চর ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার সঙ্গে পিতার সাক্ষাৎ, ‘আমার মেয়ে নির্দোষ’, দাবি বাবার!

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত ১৬ মে গ্রেফতার হওয়া হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার সঙ্গে অবশেষে দেখা করলেন তাঁর বাবা হরিশ মালহোত্রা। হিসার সেন্ট্রাল জেলে জ্যোতিকে নিয়ে আসার পর এই সাক্ষাতের সুযোগ মেলে। গ্রেফতারের পর থেকে এই প্রথমবার মেয়ে ও বাবার মধ্যে দেখা হলো।

আবেগাপ্লুত বাবা, মেয়ের নির্দোষিতার দাবি:

সাক্ষাতের পর জেল থেকে বেরিয়েই হরিশ মালহোত্রাকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। প্রায় কেঁদেই ফেলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে হরিশ মালহোত্রা দাবি করেন যে, তাঁর মেয়ে কোনো অপরাধ করেনি। জ্যোতি নিজেও বাবাকে বারংবার এই কথাই জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। মেয়ের সম্পর্কে এর বাইরে আর কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমে শেয়ার করতে রাজি হননি হরিশ।

উল্লেখ্য, জ্যোতি মালহোত্রাকে আদালতে তোলা হলে তাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই বাবা হরিশ মালহোত্রা মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।

বিলাসবহুল জীবন ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ:

‘ট্রাভেল উইথ জো’ (Travel with Jo) নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালাতেন জ্যোতি মালহোত্রা। এই চ্যানেল চালাতে গিয়েই তাঁর পাকিস্তানে যাতায়াত এবং দিল্লির পাক হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার হওয়া ১২ জন পাকিস্তানি গুপ্তচরের মধ্যে জ্যোতি অন্যতম।

পুলিশ ও গোয়েন্দারা তদন্ত করে জানতে পেরেছেন যে, পাক হাই কমিশনের কর্মী দানিশের সঙ্গে জ্যোতির যোগাযোগ ছিল। এরপর পাকিস্তানের আইএসআই হ্যান্ডেলারদের নির্দেশ মতো জ্যোতি মালহোত্রা ভারতের গোপন তথ্য তাদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ করতেন। তদন্তকারীদের ধারণা, জ্যোতি সম্পূর্ণ জেনে বুঝে এই কাজ করতেন। এই অভিযোগে গোয়েন্দারা একটানা জেরা করছেন জ্যোতি মালহোত্রাকে।

জেরায় জ্যোতি মালহোত্রার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কথা উঠে এসেছে। গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন যে, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে দুবাই থেকে টাকার লেনদেন হত। জ্যোতির বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েও ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে, যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।