শিলিগুড়িতে ফের সেনা ছাউনির কাছে বাংলাদেশি গ্রেফতার, বাড়ল নিরাপত্তা উদ্বেগ

শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরার ব্যাংডুবিতে সেনা ছাউনির কাছ থেকে ফের এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজিজুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে বুধবার ভোরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করেন সেনা জওয়ানরা। গত ২০ দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতীয় সেনা ছাউনির অদূরে বাংলাদেশি গ্রেফতার হওয়ায় সীমান্ত এবং পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গোয়েন্দারা ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করে তার গতিবিধি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইছেন।
ধৃতের পরিচয় ও আটক প্রক্রিয়া
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আজিজুল ইসলামের বাড়ি বাংলাদেশের দিনাজপুরের দামালপুরে। বুধবার ভোররাতে বাগডোগরার ব্যাংডুবির এমইএস মোড়ে তাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন সেনা জওয়ানরা। এরপর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে সে নিজের পরিচয় গোপন করতে পারেনি। বিষয়টি জানার পর সেনা পুলিশ এবং গোয়েন্দারা দফায় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের বাগডোগরা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে গোয়েন্দারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান।
নিরাপত্তা ও জঙ্গি যোগের আশঙ্কা
এই গ্রেফতারি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত ৯ মে একই এলাকা থেকে এক প্রাক্তন বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিককে পাকড়াও করা হয়েছিল। পরপর এই ঘটনাগুলি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে, আজিজুলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে কিনা। ধৃতের কাছ থেকে বাংলাদেশের নগদ টাকা, কিছু খবরের কাগজের কাটিং এবং বেশ কিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছে, যা তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে রহস্য বাড়াচ্ছে।
ভারতে অনুপ্রবেশ ও গতিবিধি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আজিজুল প্রায় ২০ দিন আগে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়ার সীমান্ত দিয়ে নদী পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। গত ২৫ মে সে সুকনার কাছে শালবাড়িতে একটি খোলা জায়গায় রাত কাটায় এবং পরদিন ২৬ মে ব্যাংডুবি সেনা ছাউনি সংলগ্ন জঙ্গলে চলে আসে। শালবাড়ি থেকে কেন সে ব্যাংডুবিতে এলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের কথায় অনেক অসঙ্গতি রয়েছে, যা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করেছে।
শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানিয়েছেন, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গোয়েন্দারা আশা করছেন, জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুলের ভারতে অনুপ্রবেশের আসল কারণ এবং তার সঙ্গে কোনো নাশকতামূলক কার্যকলাপের যোগসূত্র আছে কিনা, তা স্পষ্ট হবে।