‘সন্ত্রাসীরা ২৬ জন মহিলার সিঁথির সিঁদুর মুছে দিয়েছে, অপারেশন সিঁদুর জরুরি ছিল’ : শশী থারুর

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর পানামায় এক সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এর যৌক্তিকতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নাগরিকের অসহায়তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার চুপ করে বসে থাকতে পারে না এবং এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।
মঙ্গলবার ‘অপারেশন সিঁদুর গ্লোবাল আউটরিচ মিশন’-এর অংশ হিসেবে পানামায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শশী থারুর বলেন, “ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান প্রয়োজনীয় ছিল, কারণ এই সন্ত্রাসীরা এসে ২৬ জন মহিলার সিঁথির সিঁদুর মুছে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের বোন ও মেয়েদের তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছে তা বলতে বলেছিল। থারুর উল্লেখ করেন, “আমরা সে কথা শুনেছি, আমরা তাঁদের ক্রন্দনধ্বনি শুনেছি এবং ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সিঁদুরের রঙ, আমাদের নারীদের সিঁথির সিঁদুরের রঙ, খুনি, অপরাধী, আক্রমণকারীদের রক্তের রঙের সঙ্গেও মিলবে।”
থারুর বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে অপারেশন সিঁদুর প্রয়োজনীয় ছিল কারণ এই সন্ত্রাসবাদীরা এসে ২৬ জন মহিলার সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে দিয়েছিল।” প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।
শশী থারুর তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা সকলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমি এবং ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে এসেছি, কিন্তু জাতীয় উদ্দেশ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ।” তিনি পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “২২ এপ্রিল, ২০২৫ পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর আমরা অপেক্ষা করেছিলাম যে পাকিস্তান সরকার এই ভয়াবহ অপরাধের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না। যখন স্পষ্টতই কিছুই করা হচ্ছিল না, তখন দুই সপ্তাহ পরে, ৭ মে, ২০২৫ আমরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জঙ্গি ঘাঁটির সদর দফতরে আক্রমণ করি।”
থারুর স্পষ্ট করেন, “যুদ্ধ শুরু করার ব্যাপারে আমাদের কোনো আগ্রহ ছিল না, তবে আমরা মনে করি যে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের শাস্তি পাওয়া উচিত।” তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অধীনে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সেই সব জঙ্গি ঘাঁটিতেই হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানো হয়েছিল।
কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ কেবল ভারতের সমস্যা নয়, এটি গোটা বিশ্বের জন্যই হুমকি এবং এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই ধরনের সাহসী পদক্ষেপ ভারতের জাতীয় চরিত্রকে প্রতিফলিত করে এবং এটি পরিষ্কার করে যে, ভারত তার সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর।