দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের জেরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস! উত্তরের জন্য রয়েছে কোন সতর্কতা?

মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত বুধবার সকালেও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে কলকাতায়, তীব্র আকার ধারণ করেছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর ফলে জল জমার সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গ এবং ওড়িশার উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার উপরে বিস্তৃত। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও তীব্র হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আজ, বুধবার (২৯ মে): দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি দমকা হাওয়া বইবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার জন্য দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে একটি হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আগামীকাল, বৃহস্পতিবার (৩০ মে): বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে। হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, সেই সাথে ঝোড়ো বাতাস বইবে। এই পরিস্থিতির জন্য আরেকটি হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

৩০ মে, দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলা ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদের মতো কিছু এলাকায় খুব ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, এই জেলাগুলিতে একটি কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে একটি হলুদ সতর্কতা কার্যকর থাকবে।

৩১ মে থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ
৩১ মে: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও, শুধুমাত্র বাঁকুড়া এবং বীরভূমে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
১ ও ২ জুন: সমস্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩ জুন: দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এই সময়ের মধ্যে তাপমাত্রার কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।