পহেলগাঁও হামলায় স্বামীহারাদের যন্ত্রণা-ক্রোধের প্রতীক, ‘অপারেশন সিন্দুর’ লোগোর নেপথ্যে দুই কারিগর

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলার পর গোটা দেশ যখন ফুঁসছিল, তখনই ৭ মে ভোররাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে ভেসে ওঠে এক চাঞ্চল্যকর বার্তা: কালো কার্ডের উপর সাদা অক্ষরে লেখা ‘অপারেশন সিঁদুর’। সঙ্গে লাল সিঁদুরের গুঁড়ো। জানা গেল, এই অভিযানের মাধ্যমেই পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত, নিকেশ হয়েছে প্রায় ১০০ জঙ্গি। চোখের পলকে ছড়িয়ে পড়ে ভারতীয় সেনার সেই লোগো কার্ড, আর দেশজুড়ে শুরু হয় সেলিব্রেশন। তবে এই আইকনিক লোগো তৈরির নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা এতদিন অজানা ছিল। এবার সামনে এল সেই পরিচয়।
বদলার প্রতীক ‘সিঁদুর’:
পহেলগাঁও হামলায় স্বামীহারাদের চোখের জলের জবাব ছিল সন্ত্রাস ঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই ‘অপারেশন সিঁদুর’। ১৪ দিন ধরে এই বদলার মুহূর্ত গুনেছে গোটা ভারত। অপারেশনের নামের ‘সিঁদুর’ শব্দটি সকলের মন ছুঁয়ে গেছে। জানা গেছে, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই নাম। তবে লোগো তৈরির কারিগরেরা এতদিন নেপথ্যেই রয়ে গিয়েছিলেন।
ওয়াররুমে তৈরি আইকনিক লোগো:
জানা গিয়েছে, এই লোগোটি ডিজাইন করেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল হর্ষ গুপ্ত এবং হাবিলদার সুরিন্দর সিং। সেনার ওয়াররুমেই তৈরি হয়েছিল এই লোগো। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা রঙ দিয়ে ব্লক লেটারে লেখা অপারেশনের নাম। ‘সিঁদুর’ শব্দের ইংরেজি বানানের ‘O’ অক্ষরটি আস্ত একটি সিঁদুর কৌটো এবং অন্য ‘O’ অক্ষরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিঁদুর পহেলগামের ঘটনার প্রতীক। এই কার্ডই গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দেয়, হয়ে ওঠে ভারতের প্রত্যাঘাত, যন্ত্রণা, ক্রোধ এবং প্রতিশোধের বহিঃপ্রকাশের এক শক্তিশালী প্রতীক।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হর্ষ গুপ্ত এবং হাবিলদার সুরিন্দর সিংয়ের ডিজাইন করা এই অপারেশনের লোগো এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯ কোটি মানুষ এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৫১ কোটি মানুষ এই ডিজাইনকে লাইক করেছেন। ১৪০ কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে এই লোগো, এবং দুই জওয়ানকে তাঁদের এই ব্যতিক্রমী কাজের জন্য দেশজুড়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।