রাস্তায় পড়ে মা-বাবার গলা কাটা দেহ, কিন্তু খোঁজ নেই ছেলের! ভয়ঙ্কর কাণ্ড মেমারিতে

বুধবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বাসিন্দারা এক নৃশংস দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। মেমারি শহরের কাশিয়ারা কাজিপাড়ার একটি বাড়ির সামনের রাস্তায় গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় দুটি নিথর দেহ। নিহতরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী বলে জানা গেছে। মৃতদের নাম মুস্তাফিজুর রহমান (৬৬) ও মমতাজ পারভিন (৫৬)। এই মর্মান্তিক ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুস্তাফিজুর ও মমতাজের বাড়িতে তাঁদের এক ছেলে থাকত। ঘটনার পর থেকে আসিফ নামে ওই যুবকের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আসিফের নিখোঁজ থাকার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবে জড়িত কিনা, নাকি এই জোড়া খুনের নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

এলাকার লোকেরাই প্রথম গলা কাটা দেহ দুটি দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মেমারি থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্ভবত ঘরের ভেতরেই ওই দম্পতিকে খুন করা হয়েছে। এরপর আততায়ী বা আততায়ীরা দেহ দুটি টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে এসে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এই জোড়া খুনের কিনারা করতে ইতিমধ্যেই এলাকার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। নিখোঁজ আসিফের সন্ধানেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা এর পিছনে জড়িত, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।