বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের চাপ, শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের ধর্মঘটে অচল দেশ!

বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক দলের চাপের মুখে পড়েছে। নানা সিদ্ধান্তের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যেই নতুন করে সংকট তৈরি করেছে দেশজুড়ে প্রাথমিক সহকারী স্কুল শিক্ষক এবং সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘট। সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘট চতুর্থ দিনে প্রবেশ করেছে, আর শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ
শনিবার থেকে সরকারি কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। এবার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদের হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সারা বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনরত শিক্ষকদের মূল দাবি হলো বেতন বৃদ্ধি। গত ৫ মে থেকে তাঁরা আংশিকভাবে কাজ থেকে বিরত ছিলেন, কিন্তু সোমবার থেকে সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ঢাকার সূত্রাপুর, ডেমরা এবং গুলশানের মতো এলাকায় শিক্ষকদের আংশিক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। অনেক শিক্ষক ক্লাস পরিচালনা করলেও প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। পূর্বাঞ্চলীয় শহর চট্টগ্রাম এবং রাঙ্গামাটিতে ধর্মঘট বেশি জোরালো ছিল, সেখানে শিক্ষকরা সকল ধরণের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত ছিলেন। রাজশাহী এবং রংপুরে পূর্ণ দিবস এবং আংশিক ধর্মঘটের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তবে বরিশালে এর কোনও প্রভাব পড়েনি।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি
শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে মূলত তিন দফা দাবিতে:

জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, প্রারম্ভিক বেতন একাদশ গ্রেডে নির্ধারণ করা।
১০ এবং ১৬ বছরের চাকরির পরে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সমস্যা সমাধান করা।
দ্রুত পদোন্নতি নিশ্চিত করা, যার মধ্যে সকল প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের জন্য সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া।
সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট ও অধ্যাদেশ বিতর্ক
বাংলাদেশের হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সরকারি কর্মীরা ইউনূস সরকারের খসড়া অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে ২৪ মে শনিবার থেকে বিক্ষোভ করছেন। এই খসড়া অধ্যাদেশে অসদাচরণের জন্য সরকারি কর্মীদের ১৪ দিনের মধ্যে বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছিল। সোমবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অধ্যাদেশে অনুমোদন দেয়, যা সরকারি কর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সকলে এটিকে ‘দমনমূলক’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

প্রথম আলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিক্ষোভকারী সরকারি কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী সরকারি অফিসগুলিতে তাঁদের আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়বে। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর বিভাগ ভেঙে অর্থ মন্ত্রকের অধীনে দু’টি বিভাগে বিভক্ত করার আদেশের ফলে রবিবার পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারি কর্মীরা বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে রবিবার আদেশ প্রত্যাহারের পর সেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।