স্বামীর মৃত্যুর পরেও পরেন সিঁদুর! ৭০ বছরেও একা রেখা, কেন আর বাঁধেননি ঘর?

বলিউডের চিরসবুজ অভিনেত্রী রেখার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আজও কৌতূহলের শেষ নেই। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন এক সময়ে ছিল টিনসেল টাউনের অন্যতম চর্চিত বিষয়। শুধু অমিতাভ নন, বিভিন্ন সময়ে একাধিক নায়কের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। তবে জানেন কি, এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জীবনে বিয়ে করেছিলেন মাত্র একবারই, কিন্তু সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি।

১৯৯০ সালে রেখা দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশ অগ্রবালকে বিয়ে করেন। কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৯৯১ সালে মুকেশ আত্মহত্যা করেন। মুকেশের মৃত্যুর পর অনেকেই রেখাকে দোষারোপ করেছিলেন, এমনকি ‘ডাইনি’ পর্যন্ত বলতে ছাড়েননি। এই ঘটনায় রেখা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং তারপর থেকে আর দ্বিতীয়বার বিয়ের পথে হাঁটেননি। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সে একাই জীবন কাটাচ্ছেন এই কিংবদন্তি নায়িকা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রেখাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে না করার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, তিনি আর কাউকে হারাতে চান না। তবে রেখাকে প্রায় সবসময়ই সিঁদুর পরে দেখা যায়, যা নিয়েও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

একই সাক্ষাৎকারে রেখা মাতৃত্ব নিয়েও মুখ খোলেন। জীবনে সন্তানের অভাব অনুভব করেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, বর্তমানে তিনি সেই আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন না। রেখা আরও বলেন, যদি সন্তান লালন-পালনের জন্য কোনও আদর্শ সঙ্গীও পাওয়া যায়, তবুও তা তাঁর মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না। তিনি এমন একজন মানুষ নন যিনি কেবল একজনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারবেন। যদি তাঁর সন্তান থাকত, তাহলে তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ তাদের উপর চলে যেত এবং অন্য কোনও বিষয়ে সময় বা মনোযোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হত না।

রেখা মনে করেন, তাঁর সম্পর্ক কেবল পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বৃহত্তর পরিসরে বিস্তৃত। তিনি আধ্যাত্মিকভাবে বিশ্বের বহু শিশু ও মানুষের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন। রেখা বলেন, ‘যদি আমার রেখা হওয়ার সৌভাগ্য হয়ে থাকে, তাহলে আমার কর্তব্য যে, যাঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান তাঁদের জন্য উপলব্ধ থাকা।’

যদিও রেখা আর বিয়ে করেননি, তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি তিনি কোনও সম্পর্কে থাকতেন, তবে তিনি সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত থাকতেন। তিনি বলেন, তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সম্পর্কে সবকিছু উজাড় করে দিতেন – সঙ্গীর বিছানা তৈরি করা থেকে শুরু করে পোশাক নির্বাচন, খাবার তৈরি এবং এমনকি নিজের হাতে লাঞ্চ পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সবই করতেন। তবে এই ধরনের সম্পূর্ণ মনোযোগের অর্থ হল তাঁকে তাঁর বৃহত্তর জগৎ এবং পরিচিতি থেকে দূরে সরে যেতে হত। রেখা স্বীকার করেন তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি অবাস্তব মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই তাঁর ভেতরের অনুভূতি।