‘পদত্যাগ’ টালবাহানা কাটিয়ে জাপানের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের স্বল্প সুদে ঋণ নিতে যাচ্ছেন ইউনূস

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনবিক্ষোভের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক গুরুত্বপূর্ণ চার দিনের সফরে আগামীকাল মঙ্গলবার জাপান যাচ্ছেন। তাঁর এই সফর ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা, বিশেষ করে যখন সরকারি কর্মচারীরা ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে কর্মবিরতির ডাক দিয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করছেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সাময়িক স্থিরতা এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ এখনও চাপের মুখে।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত বিদেশ সচিব নুরুল আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ২৮শে মে ভোরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এর আগে তিনি বিনিয়োগ টানতে চীন সফর করেছিলেন। এবার তিনি যাচ্ছেন এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি জাপানে।

জানা গেছে, আগামী ২৯ ও ৩০শে মে জাপানের রাজধানী টোকিওতে আয়োজিত হতে চলেছে ‘নিক্কেই ফোরাম সম্মেলন’। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বাণিজ্যিক সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন ড. ইউনূস। এই সফরে জাপানের কাছ থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গে বিদেশ সচিব আরও জানিয়েছেন, জাপান সফরকালে সেই দেশের সঙ্গে মোট ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা পত্রও স্বাক্ষর করবেন প্রধান উপদেষ্টা। এসব চুক্তির মধ্যে বাজেট সহায়তা, প্রকল্পগুলোতে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা, বিদ্যুৎ খাতে কৌশলগত সমঝোতা, নারায়ণগঞ্জে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) ভূমি নিয়ে সমঝোতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক প্রবাসী কল্যাণে সমঝোতা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন সমঝোতা উল্লেখযোগ্য। এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গেও তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এমন এক সময়ে এই সফর হচ্ছে, যখন দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ক্ষোভ ও জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি, সরকারি কর্মচারীরা ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে কর্মবিরতি এবং আন্দোলন-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এই অচলাবস্থার মাঝেই প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফর, বিশেষত অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্দেশ্যে, দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এই সফর কি চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমিত করতে সহায়ক হবে, নাকি এটি শুধুমাত্র একটি সাময়িক পদক্ষেপ? একদিকে যখন দেশের জনগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে, তখন এই বিদেশ সফর সরকারের প্রতি জনসমর্থন বাড়াতে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে।