সুইসাইড নোটটি আদৌ ওই বালক লিখেছিল?-জেনেনিন কি জানা যাচ্ছে রিপোর্টে?

পাঁশকুড়ার গোসাইবেড় গ্রামের ১২ বছর বয়সী কৃষ্ণেন্দু দাসের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চিপস চুরির মিথ্যা অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই ওই কিশোর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এই ঘটনায় এবার অভিযুক্ত দোকানদার তথা সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিতের বিরুদ্ধে পাঁশকুড়া থানায় এফআইআর দায়ের করেছে মৃত বালকের পরিবার। রবিবার কৃষ্ণেন্দুর মা সুমিত্রা দাস অভিযোগ দায়ের করলে তার ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে কৃষ্ণেন্দু দাস চিপস কিনতে দোকানে গিয়েছিল। দোকানদারকে বহুবার ডাকাডাকি করেও খুঁজে না পেয়ে সে দেখতে পায় দোকানের বাইরে হাওয়ায় উড়ে আসা একটি চিপসের প্যাকেট পড়ে আছে। সেই প্যাকেটটি তুলে সাইকেলে করে বাড়ির পথে রওনা দেয় কৃষ্ণেন্দু। এরপরই স্থানীয় দোকানদার ও সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিত তাকে ভরা বাজারে চোর অপবাদ দেন বলে অভিযোগ।

এই অপবাদ মেনে নিতে পারেনি কৃষ্ণেন্দু। বাড়ি ফিরে মা বকাবকি করার পর সে একটি সুইসাইড নোট লিখে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, “মা আমি চুরি করিনি…”। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যা ঘটনার সত্যতা প্রমাণে সাহায্য করতে পারে।

কৃষ্ণেন্দুর মা সুমিত্রা দাস ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই শুভঙ্কর দীক্ষিতের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। প্রথমে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি তিনি। তবে রবিবার তিনি পাঁশকুড়া থানায় শুভঙ্কর দীক্ষিত, তার ভাই দীপঙ্কর দীক্ষিত, স্ত্রী নিশা দীক্ষিত এবং বাবা সূর্যকান্ত দীক্ষিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে শুভঙ্কর পলাতক।

এদিকে, কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যুর পর যে সুইসাইড নোটটি সামনে এসেছিল, সেটি খাতার উপরে কৃষ্ণেন্দুর নাম, রোল নম্বর ও শ্রেণি লেখা ছিল। তার নিচে লেখা ছিল, ‘মা আমি বলে যাচ্ছি যে আমি কুড়কুড়াটি রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম চুরি করিনি।’ পুলিশ পরিবারের কাছ থেকে নোটটি পরীক্ষার জন্য নিয়েছে। পাঁশকুড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে সুইসাইড নোটে হাতের লেখায় গরমিল রয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের। লেখাটি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রয়োজনে হস্তলেখা বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনায় নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।