“ভারতকে এতটা শক্তিশালী হতে হবে যাতে…!”-বড় বার্তা দিলেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত দেশের সুরক্ষা, হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল।
সঙ্ঘের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার উইকলি’-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মোহন ভাগবত বলেন, “সমস্ত বৈচিত্র্যকে একটি ঐক্যে গাঁথার সুতো হলো সঙ্ঘ।” তাঁর এই মন্তব্য দেশের বিভিন্নতার মধ্যে একতার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে সঙ্ঘ প্রধান জোর দিয়ে বলেছেন, “ভারতকে এতটা শক্তিশালী হতে হবে যাতে একাধিক শক্তি একসঙ্গে এলেও আমাদের জয় করা না যায়।” তিনি হিন্দু সমাজকে অভ্যন্তরীণ শক্তিবৃদ্ধি করার এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আত্মনির্ভরতা এবং সংহতির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মোহন ভাগবত বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের বিষয়েও উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এ বার বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এমনকী, স্থানীয় হিন্দুরা বলছেন, আমরা পালাব না। আমরা এখানে থেকে আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করব।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে হিন্দু সমাজের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বাড়ছে। সংগঠন যত বাড়বে, তার প্রভাব স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিফলিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশে হিন্দুদের স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাদের সংকল্পের প্রতি সমর্থন এবং হিন্দু সমাজের ক্রমবর্ধমান আত্মসচেতনতার ইঙ্গিত বহন করে।
সামগ্রিকভাবে, মোহন ভাগবতের এই মন্তব্যগুলি একদিকে যেমন ভারতের নিরাপত্তা এবং আত্মরক্ষার উপর জোর দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং নিজেদের অধিকারের জন্য লড়ার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।