OMG! ধর্ষণের পর শরীরে লোহার রড ঢুকিয়ে অত্যাচার, অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধেই

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা দিল্লির নির্ভয়াকাণ্ডের বিভীষিকাময় স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে। শনিবার দুপুরে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। গ্রামবাসীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি গণধর্ষণ। ধর্ষণের পাশাপাশি ওই মহিলার উপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যেখানে খুনের আগে তাঁর শরীরে লোহার রড ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হয়। এই বীভৎস ঘটনার বর্ণনা শুনলে যে কেউ শিউরে উঠবে।

ওই মহিলার দুই সন্তান রয়েছে। শনিবার দুপুরে তাঁর মেয়ে এক প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে মাকে অচেতন ও বীভৎস অবস্থায় দেখতে পায়। অভিযোগ, যে অবস্থায় কিশোরী তার মাকে দেখতে পায়, তাতে সে এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল যে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই মহিলা মেঝেতে পড়ে আছেন। তাঁর গোটা শরীর ক্ষতবিক্ষত, খুবলে নেওয়া হয়েছে। মেঝে রক্তে ভাসছে, মাংসের দলা এবং শরীরের কিছু অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে গ্রামবাসীরাই থানায় অভিযোগ জানান। তাঁদের দৃঢ় অনুমান, ওই মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। যে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেই এলাকার লোকজনের সন্দেহের আঙুল উঠেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করার খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, নির্যাতিতা মহিলার দেহ স্থানীয় জেলা হাসপাতালের লাশকাটা ঘরে রাখা হয়েছে এবং সেখানেই ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।

এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই ২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ নির্ভয়াকাণ্ডের মিল পাচ্ছেন। দিল্লির চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর নির্ভয়াকে অমানুষিক অত্যাচার করে খুন করা হয়েছিল। যৌন নির্যাতনের পর তাঁর শরীরে লোহার রড ঢুকিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বাধা দেওয়ায় তাঁর বন্ধুকেও আক্রমণ করা হয়। সেই ঘটনার ঠিক ১৩ দিন পর ওই তরুণী মারা যান, যা দেশের রাজধানীতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল এবং গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

শনিবার ভোপালের এই নৃশংস অত্যাচারের ঘটনা সেই দিল্লির রাতের বিভীষিকাময় স্মৃতিকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।