OMR শিটের ‘মিরর ইমেজ’ প্রকাশ করা হোক, অযোগ্যদের বরখাস্ত চাই—দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা চাকরিহারা শিক্ষকরা

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি হারানোর দীর্ঘ লড়াই এবার নতুন আইনি মোড় নিতে চলেছে। বিকাশ ভবনের সামনে মাসের পর মাস ধরে চলা আন্দোলনের পর চাকরিহারা শিক্ষকরা এবার ন্যায়বিচারের আশায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তাঁদের প্রধান দাবি, প্রাথমিক টেট (TET), এসএলএসটি (SLST) সহ বিভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাতিল হওয়া OMR শিটের ‘মিরর ইমেজ’ প্রকাশ করা হোক। একইসঙ্গে, যাঁরা অবৈধভাবে চাকরিতে রয়েছেন বা অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার সকালে চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাঁদের লক্ষ্য, সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করে আইনি পথে তাঁদের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করা। আন্দোলনকারীদের বিশ্বাস, শুধুমাত্র দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপেই এই ব্যাপক দুর্নীতির অবসান হতে পারে।

চাকরিহারাদের অন্যতম মুখপাত্র সুমন বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাই স্বচ্ছতা। OMR শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশ করা হলে বোঝা যাবে কে কীভাবে পাশ করেছে। অনেক অযোগ্য প্রার্থীরা অবৈধভাবে চাকরি করছে, আর প্রকৃত যোগ্যরা রাস্তায়। এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকায় বহু যোগ্য প্রার্থী তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক রায়ে চাকরি বাতিল হওয়া সত্ত্বেও বহু অযোগ্য প্রার্থী এখনও শিক্ষা দপ্তরের ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া তাঁদের কাছে শেষ ভরসা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, শিক্ষা ও চাকরি তাঁদের জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং নির্দোষ ও যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত পুনর্বহাল করা হোক।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি গত কয়েক বছর ধরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিবিআই এবং ইডির তদন্তে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা পর্ষদের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যেই আদালতের নির্দেশে হাজার হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে, যার ফলে তাঁরা রাস্তায় নেমে আন্দোলনে বাধ্য হয়েছেন।

চাকরিহারাদের এই সুপ্রিম কোর্ট যাত্রা তাই শুধু একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং এটি দীর্ঘ বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক গণপ্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাঁরা আশাবাদী, দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচার মিলবে এবং তাঁদের হারানো অধিকার ফিরে পাওয়া যাবে।