Weather: ৪৮ ঘণ্টাতেই বঙ্গে বর্ষা? তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ, জেনেনিন কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টি?

অপেক্ষার অবসান! আর মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। রেকর্ড ভেঙে নির্ধারিত সময়ের আট দিন আগেই কেরালায় বর্ষা ঢুকেছে, এবার বাংলার পালা। এর পাশাপাশি, সপ্তাহের প্রথম দিনেই দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যে মৌসুমী বায়ু প্রবেশের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ই মে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষা পৌঁছেছিল, এবং নির্ধারিত দিনের আগেই কেরালায় বর্ষার আগমন ঘটেছে। একইসঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও খুব শীঘ্রই বর্ষা প্রবেশ করবে।
এরই মধ্যে পশ্চিম মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় আগামীকাল, ২৭শে মে মঙ্গলবার, একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। এই নিম্নচাপটি পরবর্তী দু’দিনের মধ্যে আরও শক্তি বাড়াবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত এর অভিমুখ উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে। মৌসম ভবন এই নিম্নচাপটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় কিনা, সেদিকে নিবিড় নজর রাখছে। এছাড়াও, ওড়িশা, গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে।
আজ দক্ষিণবঙ্গের উপকূল লাগোয়া ৪টি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে এবং সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। বুধবার থেকে কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার দিনের যে কোনও সময় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টির ধারা শনিবার পর্যন্ত চলতে পারে। কলকাতায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৮ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলায় সোমবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বা মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে। দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। সোমবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাতে ঝড়ের গতিবেগ বেশি থাকতে পারে। বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হবে। বৃহস্পতিবার থেকে কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি এই দুই জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ষার আগমনের এই পূর্বাভাসে একদিকে যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা, তেমনই শহরবাসীকেও প্রাক-বর্ষার এই ঝড়-বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।