বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র’; তৃণমূলের সতর্কবার্তা

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র’: তৃণমূলের সতর্কীকরণ, বিজেপির অস্বীকার
কলকাতা: আর কয়েক মাস পরেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে চলেছে। ইতিমধ্যেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি উভয়েই সংগঠন মজবুত করার কাজে নেমে পড়েছে। এই আবহের মধ্যেই উঠে এসেছে এক গুরুতর অভিযোগ: কিছু ‘কুচক্রী’ ব্যক্তি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা কৌশলে তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন তৃণমূল দলীয় নেতাদের সতর্ক করে একটি সার্কুলার জারি করেছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সম্প্রতি জঙ্গলমহলের বিনপুরে এই ধরনের একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়। এরপর তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার একটি সার্কুলার জারি করেন। সেই সার্কুলারে বলা হয়েছে যে, “স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিও-র নাম ব্যবহার করে কিছু কুচক্রী ব্যক্তি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। কখনও বিনামূল্যে মশলা, কখনও বা অন্যান্য জিনিস বিতরণ করার বিনিময়ে তাঁরা ভোটারদের নাম, ফোন নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছেন।”
দলের অভিযোগ, এই ‘কুচক্রী’রা শুধু ভোটারদেরই নয়, দলের বুথ ও অঞ্চল স্তরের নেতাদের কাছেও যাচ্ছেন। ভুয়ো পরিচয় দিয়ে তাঁরা বুথ ও অঞ্চল স্তরের নেতাদের বলছেন যে, তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্ব পাঠিয়েছে। এই বলে তাঁরা দলের নেতাদের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছেন। তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গেছে যে, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এই ‘কুচক্রী’দের কার্যকলাপ সম্পর্কে দলীয় নেতাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, “অবিলম্বে আপনার/আপনাদের অঞ্চলে নজর রাখুন এবং সব স্তরের বুথকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন করুন।” দল আরও জানিয়েছে যে, এই ‘কুচক্রী’রা দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো দলের অভ্যন্তরীণ খবর সংগ্রহ করা। তাই, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এফআইআর করুন এবং আমাদের জানান,”—সার্কুলারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল মনে করছে, ভোটারদের তথ্য হাতানোর এই ‘ষড়যন্ত্রে’র নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দলের সমাবেশ থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা যাচাইয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি বড় বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, বর্তমানে বুথ স্তরে ভোটার তালিকা যাচাই এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এই আবহে তৃণমূলের ধারণা, বিজেপিই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এভাবে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
তবে, তৃণমূলের এই দাবি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ী এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস একটা চোরেদের দল। ওদের সম্বন্ধে মানুষ জানে। আমরা ওদের থেকে আবার কীভাবে তথ্য নেব? বিজেপি এভাবে কাজ করে না।”
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্যে পালাবদল ঘটাতে চায়। এমন পরিস্থিতিতে, লঙ্কার গুঁড়ো বা হলুদ গুঁড়োর বিনিময়ে ভোটারদের তথ্য হাতানোর মতো অভিনব অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শাসকদল ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে দলীয় নেতাদের সতর্ক করে সার্কুলার জারি করেছে, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।