ওষুধ খাইয়ে নাবালিকা ছাত্রীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, গ্রেফতার গানের শিক্ষক

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিজের বাড়িতে নাবালিকা ছাত্রীকে গান শেখানোর আড়ালে ওষুধ খাইয়ে অবচেতন করে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক গানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে দাসপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যার খোঁজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দাসপুরের বাসিন্দা বছর উনষাটের অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে গান শেখাতেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ছাত্রীকে ‘হোমিওপ্যাথি ওষুধ’ বলে কিছু দিতেন। এই ‘ওষুধ’ খাওয়ার পর নাবালিকা ছাত্রীটি অবচেতন হয়ে পড়ত। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দিনের পর দিন ধরে তাকে ধর্ষণ করা হত বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তকে ওই ওষুধ সরবরাহ করত আরও এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তিও নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এবং পুলিশ তারও খোঁজ শুরু করেছে।
নাবালিকা ছাত্রীটি গানের ক্লাস করে বাড়ি ফেরার পর প্রায়শই ঝিমিয়ে থাকত। এমন অস্বাভাবিক আচরণ দিনের পর দিন চলতে থাকায় পরিবারের লোকজনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপাচাপি করা হলে নাবালিকা ছাত্রীটি তার ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জানায়। এর পরই আর দেরি না করে পরিবারের লোকজন দাসপুর থানায় অভিযুক্ত গানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।
দাসপুর থানা জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পকসো আইনে অভিযুক্ত গানের শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গীর খোঁজ চলছে। সূত্রের খবর, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত গানের শিক্ষক নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনা সমাজে শিক্ষক নামের পবিত্রতা এবং বিশ্বাসের ওপর এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এমন অপরাধ রুখতে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল।