‘মা আমি বলে যাচ্ছি যে আমি…’ নাবালকের সুইসাইড নোটের হাতের লেখায় গরমিল?

পাঁশকুড়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাসের কীটনাশক খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। মৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। কৃষ্ণেন্দুর মা সুমিত্রা দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামতেই সুইসাইড নোটের হস্তাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি মৃত্যুর আগে নিজের খাতায় কিছু লিখেছিল কৃষ্ণেন্দু?

রবিবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণেন্দুর মা সুমিত্রা দাস সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিত ও তাঁর পরিবারের নামে অভিযোগ দায়ের করার পর পাঁশকুড়া থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মৃত কৃষ্ণেন্দুর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ সেই বিতর্কিত নোটটি সংগ্রহ করে।

কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যুর পর যে নোটটি সামনে এসেছিল, তাতে খাতার উপরে কৃষ্ণেন্দুর নাম, রোল নম্বর ও শ্রেণি লেখা রয়েছে। তার নিচে লেখা ছিল, ‘মা আমি বলে যাচ্ছি যে আমি কুড়কুড়াটি রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম চুরি করিনি।’ এই নোটটি গতকাল পরিবারের কাছ থেকে নেয় পুলিশ।

পাঁশকুড়া থানা সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, সুইসাইড নোটের হস্তাক্ষরে গরমিল রয়েছে। উপরের নাম ও শ্রেণি লেখা এবং নিচের লেখার মধ্যে পার্থক্য চোখে পড়েছে পুলিশের। অর্থাৎ, দুটি ভিন্ন হাতের লেখা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, লেখাটি সন্দেহজনক। প্রয়োজনে হস্তলেখা বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিতের দোকানে চিপস কিনতে গিয়েছিল সপ্তম শ্রেণির কৃষ্ণেন্দু। পরে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে দোকানদার বাজারে মারধর করেন বলে অভিযোগ। কান ধরে ওঠবসও করানো হয় তাকে। এরপর শুভঙ্করের দোকানে গিয়ে ওই কিশোরকে সামান্য শাসন করেন তার মা। তখন কিশোর জানিয়েছিল, সে চিপসের প্যাকেট চুরি করেনি, কুড়িয়ে পেয়েছিল। পরে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর দেখা যায়, দোকানের সামনে পড়ে থাকা চিপসের প্যাকেটই কুড়িয়েছিল কৃষ্ণেন্দু। এই ঘটনার কিছুদিন পরই কীটনাশক খেয়ে মৃত্যু হয় তার।

কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যুর পর সামনে আসা এই নোটকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সেই নোটেই লেখা ছিল, ‘আমি কুড়কুড়াটি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম চুরি করিনি।’ গতকাল সুমিত্রা দাস পাঁশকুড়া থানায় শুভঙ্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পরই পুলিশ ওই কাগজটি সংগ্রহ করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নোটের লেখায় গরমিল রয়েছে এবং সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই তদন্ত কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।