“ফ্রি-তে মশলা বিলির নামে…?”- ভোটের মুখে ‘তথ্য সংগ্রহ চক্র’ নিয়ে তৃণমূলের উদ্বেগ, জারি সার্কুলার

আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন থেকেই উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। সব পক্ষই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে, পিছিয়ে নেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও। এই আবহে, তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত বিধায়ক, সাংসদ, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে বুথ স্তরের কর্মীদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করেছে, যা রাজ্য-রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু করেছে।

তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার কর্তৃক জারি করা এই সার্কুলারে, দলের পক্ষ থেকে একদল ‘কুচক্রী’ সম্পর্কে তীব্র সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে যে, কিছু ব্যক্তি ‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’-এর ছদ্মবেশে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে এবং বিনামূল্যে মশলাপাতি (যেমন হলুদগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো) এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের বিনিময়ে তাঁদের নাম, ফোন নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে।

এই ঘটনা শাসক দলের নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের আশঙ্কা, এই তথ্যের পিছনে বিশাল চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র রয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই ‘কুচক্রী’দের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করতে এবং তাদের কার্যকলাপ রুখতে এই সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে কী বলা হয়েছে?

দলের সমস্ত স্তরের নেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা যেন নিজ নিজ অঞ্চলের দিকে কড়া নজর রাখেন। সর্বস্তরের বুথ কর্মীদের নিয়ে মিটিং করে সকলকে এই বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করতে বলা হয়েছে। সার্কুলারে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের কার্যকলাপের পেছনে কয়েকটি এজেন্সি সক্রিয় রয়েছে এবং তারা বুথভিত্তিক ভোটারদের খবর সংগ্রহ করছে। তৃণমূল নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে যে, এসবের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

এছাড়াও, সার্কুলারে বলা হয়েছে যে এই জনৈক ব্যক্তিরা ভোটারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও ঢুকে পড়ছে। দলের নেতাদের এই সমস্ত ব্যক্তি সম্পর্কে সমস্ত খবর নিতে বলা হয়েছে এবং বাংলার ভোটাররা এমন কিছু দেখলে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করতে এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে।

তৃণমূল নেতাদেরও টার্গেট?

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা কোনও কোনও ক্ষেত্রে তৃণমূলের বুথ এবং অঞ্চলের নেতাদের কাছেও যাচ্ছেন এবং নানা অছিলায় তাঁদের থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছেন। জঙ্গলমহলের বিনাপুরে এমন একটি ঘটনার পরেই শাসকদল সতর্ক হয় এবং এর পরেই এই সার্কুলার জারি করা হয়। ভুয়ো পরিচয় দিয়ে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে ইতিমধ্যে বাংলার বিভিন্ন জেলায় ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

শাসকদলের এই সার্কুলার নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠছে, এরা কারা? শাসক শিবির মনে করছে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপিই ষড়যন্ত্র করে এ ভাবে তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি বাকি নেই। এই আবহে এমন ঘটনা ঘটায় তৃণমূল কংগ্রেস এখন থেকেই দলের সমস্ত কর্মীর কাছে বার্তা পাঠিয়ে সচেতন করতে চাইছে।