“জ্যোতি পাকিস্তানের প্রতিনিধি…!”-পাক ইউটিউবারের বয়ানেই ফাঁস ‘গুপ্তচরের’-এর আসল পরিচয়

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সম্প্রতি ধৃত ভারতীয় ইউটিউবার ও ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রার মোবাইল ফোন ঘেঁটে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জানা গেছে, তিনি পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ট্রাভেল ভ্লগারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, জ্যোতি পাক-ইউটিউবারদের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার কাজ করছিলেন, যা আদতে গুপ্তচরবৃত্তির অংশ হতে পারে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, জ্যোতি মালহোত্রার সঙ্গে পাক ইউটিউবার জিশান হোসেইন-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রায় দু’মাস আগে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন জ্যোতি। সেই সময়ে তিনি কটাসরাজ মন্দিরে জিশানের সঙ্গে দেখা করেন এবং দু’জনে মিলে পাকিস্তানের প্রশংসা করে একটি ভিডিও তৈরি করেন। ওই ভিডিওতে তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, পাকিস্তানে হিন্দু এবং হিন্দু সংস্কৃতি কতটা সুরক্ষিত। যদিও অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি এর ঠিক উল্টো।
একটি ভিডিওতে জিশানকে সরাসরি বলতে শোনা যাচ্ছে, “জ্যোতি শুধু ভারতের নন, তিনি পাকিস্তানেরও প্রতিনিধি। তিনি ভারতে পাকিস্তানের ইতিবাচক ছবি তুলে ধরছেন।” জিশান লাহোরের বাসিন্দা এবং একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, জ্যোতি সীমান্তে সেনা মোতায়েন বা আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত সম্পর্কে কোনও স্পর্শকাতর তথ্য জিশানকে দিয়েছিলেন কি না।
পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের অপারেটিভদের সঙ্গে জ্যোতির বৈঠক হয়েছিল। জিশানের উপস্থিতিতে এই বৈঠক হয়েছিল কিনা, তাও তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, এই বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন আলি হাসান নামের এক ব্যক্তি। সন্দেহ করা হচ্ছে, জ্যোতি ও জিশান একসঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের এজেন্টদের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করতেন।
বর্তমানে জ্যোতি মালহোত্রা হরিয়ানার হিসার পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। গত দুই সপ্তাহে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আরও ১১ জনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, গোটা উত্তর ভারত জুড়েই একটি পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট গুপ্তচর নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। এখন জ্যোতির মাধ্যমে ওই নেটওয়ার্কের গভীরে পৌঁছতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।