‘মন কী বাত’-এ মোদীর অপারেশন সিদুঁর ও পরিবেশ বার্তা; সন্ত্রাস দমনে ভারতের দৃঢ় সংকল্প

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১২২তম পর্বের মাধ্যমে দেশবাসীকে সম্বোধন করেছেন। তাঁর বার্তায় প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা এবং পরিবেশ রক্ষায় দেশের উদ্যোগ।

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণের শুরুতেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার, আজ সমগ্র দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, ক্ষোভে ভরা এবং সংকল্প নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি ভারতীয় ঠিক করেছে যে আমাদের সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে।”

তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় আমাদের সেনাবাহিনী যে সাহস এবং বীরত্ব দেখিয়েছে, তাতে প্রতিটি ভারতীয়র মাথা গর্বিত হয়ে উঁচু হয়েছে। আমাদের সেনাবাহিনী যে স্পষ্টতা এবং নির্ভুলতার সঙ্গে সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করেছে, তা প্রশংসনীয়। এই অপারেশন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্বকে একটি নতুন আস্থা এবং উদ্যম দিচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, ভারত ৩৩টি দেশে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে যাতে বিশ্বব্যাপী ভারতের সন্ত্রাস-বিরোধী কঠোর অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়।

প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই অভিযান এক বছর পূর্ণ করবে। এই উদ্যোগ মানুষকে গাছ লাগাতে এবং পরিবেশ রক্ষায় অনুপ্রাণিত করে।

‘মন কি বাত’-এর এই পর্বে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন যে, এই অভিযানকে সফল করতে প্রত্যেকেই অবদান রাখছেন। তিনি বলেন, “এটা কীভাবে সম্ভব যে পরিষ্কার ভারতের কথা বলা হচ্ছে এবং ‘মন কি বাত’-এর শ্রোতারা পিছিয়ে থাকবেন? আমার পূর্ণ বিশ্বাস যে আপনারা সকলেই নিজ নিজ স্তরে এই অভিযানকে শক্তিশালী করছেন।”

তিনি আইটিবিপি (ITBP) সদস্যদের এক উদাহরণ তুলে ধরেন, যারা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন শৃঙ্গ, যেমন মাকালু পর্বত আরোহণ করতে গিয়েছিলেন এবং শুধু পর্বতারোহণই করেননি, তারা চূড়ার কাছে পড়ে থাকা ১৫০ কিলোগ্রামেরও বেশি অ-জৈব-পচনশীল বর্জ্য নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এই অদম্য সংকল্পের প্রশংসা করে বলেন, “এত উচ্চতায় পরিষ্কার করা সহজ কাজ নয়। কিন্তু এটি দেখায় যে যেখানে দৃঢ় সংকল্প থাকে, সেখানে পথ আপনাআপনি তৈরি হয়ে যায়।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী কাগজের অপচয় এবং পুনর্ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের ল্যান্ডফিল বর্জ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাগজের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বিষয়ে অনেক ভারতীয় স্টার্টআপের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আজ প্রতিটি ব্যক্তির এই দিকে চিন্তা করার প্রয়োজন।” তিনি বিশাখাপত্তনম, গুরুগ্রামের মতো শহরগুলিতে অনেক স্টার্টআপের কথা বলেন, যারা কাগজের পুনর্ব্যবহারের নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করছে – যেমন পুনর্ব্যবহৃত কাগজ থেকে প্যাকেজিং বোর্ড তৈরি করা বা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সংবাদপত্র পুনর্ব্যবহার সহজ করা। তিনি জানান যে, জালনার মতো শহরের কিছু স্টার্টআপ ১০০ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত উপাদান থেকে প্যাকেজিং রোল এবং কাগজের কোর তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এক টন কাগজ পুনর্ব্যবহার করলে ১৭টি গাছ কাটা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং হাজার হাজার লিটার জল সাশ্রয় পাওয়া যায়।”

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তা সন্ত্রাস দমনে ভারতের দৃঢ় সংকল্প, পরিবেশ সচেতনতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগগুলির ওপর আলোকপাত করেছে।