ভারতে ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! এখনই ভয় না পাওয়ার আহ্বান কেন্দ্রের

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নতুন করে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মনে ফের লকডাউনের উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, নতুন আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং পরিস্থিতি গুরুতর নয়।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ, জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এই বৈঠকটি জাতীয়ভাবে COVID-19 বৃদ্ধি কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কেরল, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা সর্বাধিক।

ভারতে বর্তমানে সংক্রমিত COVID-19-এর প্রধান স্ট্রেনটি JN.1 রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সংক্রমণের ৫৩% এর জন্য দায়ী। এরপরে, Omicron ২০% ক্ষেত্রে এবং NB.1.8.1 রূপের বৃদ্ধিও লক্ষ্য করা গেছে। তদুপরি, ভারতে করোনাভাইরাসের LF.7 রূপের চারটি কেস রিপোর্ট করা হয়েছে।

এই নতুন স্ট্রেনগুলির বিস্তার সত্ত্বেও, সংক্রমণের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। বেশিরভাগ রোগীই বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন, এবং হাসপাতালে ভর্তির হার কম। যদিও সিঙ্গাপুর এবং হংকং সহ অন্যান্য দেশেও COVID-19 মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবে ভাইরাসের নতুন রূপগুলি তাদের পূর্বসূরীদের তুলনায় উচ্চতর সংক্রমণ ঝুঁকি উপস্থাপন করে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সারা দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের শয্যা ধারণক্ষমতা এবং অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজরদারি রাখছে এবং জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেছে।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ হালকা এবং বাড়িতেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির উপর তাৎক্ষণিক মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।