OMG! হাইওয়েতে অশ্লীল কাজকর্ম, ভিডিও ভাইরাল হতেই পলাতক অভিযুক্ত সেই নেতা

মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর জেলার স্থানীয় নেতা মনোহরলাল ধাকড়ের বিরুদ্ধে এক মহিলা বন্ধুর সঙ্গে জনসমক্ষে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ উঠেছে, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। গত ১৩ মে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের হাই-রেজোলিউশন সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই ঘটনা, যা নেটমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

মধ্যপ্রদেশের পরিবহণ দফতরের তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে সিসিটিভিতে দেখা সাদা গাড়িটি মনোহরলাল ধাকড়ের নামেই নথিভুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, মনোহরলাল ধাকড় এবং তার মহিলা সঙ্গিনীর বিরুদ্ধে ভানপুরা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ২৯৬ (প্রকাশ্যে অশ্লীলতা), ২৮৫ (জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি করা) এবং ৩(৫) ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নেতা পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের কয়েকটি দল বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে।

অভিযুক্ত মনোহর লাল ধাকড়কে বিজেপি নেতা বলে দাবি করা হলেও, বিজেপি জেলা সভাপতি রাজেশ দীক্ষিত এই দাবি খারিজ করে বলেছেন, “মনোহরলাল বিজেপির প্রাথমিক সদস্য নন। তাঁর স্ত্রী জেলা পঞ্চায়েত সদস্য। দলের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।”

ধাকড় মহাসভা যুব সমিতি নামে একটি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই সংগঠনের জাতীয় সভাপতি অর্জুন ধাকড় বলেন, “সংগঠনের মর্যাদা ধরে রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

রতলম রেঞ্জের ডিআইজি মনোজ সিং জানান, “প্রকাশ্যে এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। এটা আইন অনুযায়ী অপরাধ। রাস্তা নাগরিকদের নিরাপদ এবং সম্মানের সঙ্গে যাতায়াতের জন্য তৈরি। এই ঘটনায় সামাজিক মর্যাদাই নয়, লঙ্ঘিত হয়েছে আইন-শৃঙ্খলাও। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য আশেপাশের জেলাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, জনসমক্ষে অশ্লীল কাজ করার জন্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ধারায় অন্যের জীবন বা সম্পত্তির জন্য বিপদ বা ঝুঁকি তৈরি করে এমন অপরাধের কথা বলা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। এই দুটি ধারার অধীনেই শাস্তি এবং জরিমানা একই সঙ্গে আরোপ করা যেতে পারে। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মনোহরলাল ধাকড়কে সর্বোচ্চ ৬ মাস জেলে থাকতে হতে পারে।