দুঃসাহসী পাইলটরা যেভাবে নামালেন প্লেন…পাইলটদের সাহসিকতার প্রশংসা! তদন্ত জোর কদমে

সম্প্রতি শ্রীনগরগামী ইন্ডিগো বিমানের জরুরি অবতরণের ঘটনায় দুই পাইলটের পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিমানটিকে নিরাপদে নামানোর জন্য তিনি পাইলট ও বিমানকর্মীদের কুর্নিশ জানিয়েছেন। তবে, এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)।
ঘটনার পর থেকে যাত্রীরা থেকে শুরু করে অন্যান্য পাইলটরাও ইন্ডিগোর দুই পাইলটের দক্ষতার প্রশংসা করছেন। বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু বলেন, “পাইলট এবং বিমানকর্মীরা যে ভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, যে ভাবে ওই আবহাওয়ার মধ্যেও বিমানটিকে নিরাপদে নামানো হয়েছে, তাতে তাঁদের কুর্নিশ জানাচ্ছি। কারও কিছু হয়নি, সকলে নিরাপদে আছেন, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। তবে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।”
তদন্তের কারণে আপাতত ওই দুই পাইলটকে কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাঁদের তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়ে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। যথাযথ জবাব দিতে পারলেই তাঁরা ফের ককপিটের আসনে ফিরতে পারবেন।
ডিজিসিএ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে এবং পাইলটদের বক্তব্য শুনবে। জানা গেছে, ইন্ডিগো বিমানটিকে প্রয়োজন মতো কন্ট্রোল ভেক্টর এবং গ্রাউন্ডস্পিড রিডআউট দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার সংগ্রহ করা হয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, লাহোর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ইন্ডিগোর উড়ানটিকে তাদের আকাশসীমায় ঢুকতে না দেওয়ার পর সেটি শ্রীনগরের দিকে এগোতে শুরু করে। এরপর থেকে ভারতীয় বায়ুসেনা পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের সাহায্য করে। বায়ুসেনাও নিশ্চিত করেছে যে, এই দুর্যোগের সময় বিমান থেকে পাইলটরা একাধিক সতর্কবার্তা পাচ্ছিলেন।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) এক বিবৃতিতে প্রকাশ করে জানিয়েছে, সেদিন শ্রীনগরগামী সেই এয়ারবাস এ৩২১ নিও বিমানটি প্রতি মিনিটে ৮,৫০০ ফুট বেগে নীচে নামছিল, যা স্বাভাবিক অবতরণের হারের চেয়ে চারগুণ বেশি। ঝড়ের ভিতরে আটকা পড়ার সময় বিমানের একাধিক ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে বিমানটি উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এদিকে, বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য পাইলটরা যখন লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই সময় তারা ওভারস্পিড পরিস্থিতি সম্পর্কে একযোগে সতর্কতা পেতে শুরু করেছিলেন।
এই ঘটনা আবারও বিমান চালনায় পাইলটদের দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এল। তদন্তের ফলাফল থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও উন্নত পদ্ধতি বের করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।