‘কর’ আরোপে কড়াকড়ি নবান্নের! সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে বড় সিদ্ধান্ত, মুখ্যসচিবের কড়া নির্দেশিকা

আর নিজেদের ইচ্ছামতো কর চাপাতে পারবে না রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদগুলিকে কর আরোপের ক্ষেত্রে নবান্নের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সব জেলাশাসকদের কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সূত্রের খবর, পঞ্চায়েতগুলির সাধারণ মানুষের উপর যথেচ্ছ কর চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই এই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক অভিযোগ সামনে এসেছে যেখানে দেখা গেছে পঞ্চায়েতগুলি নিজেদের ইচ্ছেমতো কর আদায় করছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসতেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সম্প্রতি, মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত কোনও কর বা ফি ধার্য করার আগে অবশ্যই রাজ্য অর্থদপ্তর বা পঞ্চায়েত দপ্তরের অনুমতি নেবে।
জেলাশাসকদের প্রতি মুখ্যসচিবের স্পষ্ট নির্দেশ, কর সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকাগুলি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা, সেদিকে তাঁদের কড়া নজর রাখতে হবে। বিডিওদেরও এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যদি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদ সরকারি নির্দেশিকা না মানে, তবে এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
আগে হাতে লেখা রসিদের মাধ্যমে কর আদায় করা হলেও, এবার থেকে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেই ‘ইউনিফায়েড অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার’-এর সাহায্যে ‘সহজ সরল’ নামে একটি পোর্টাল চালু করা হয়েছে। জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত – এই তিনটি স্তরেই প্রচুর টাকার লেনদেন হয়। এখন থেকে সমস্ত আর্থিক লেনদেন এই পোর্টালের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে, যা স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চায়েতে কর ধার্য করা বা তার প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকার আগেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকা অনুসারেই কর ধার্য করার কথা। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক জেলা থেকে পঞ্চায়েতের কর আদায় নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরই নবান্ন এই কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।