কোটায় ছাত্রমৃত্যু – সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে রাজস্থান সরকার, প্রশ্ন খড়গপুর আইআইটি নিয়েও

রাজস্থানের কোটা, যা ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরিচিত, সেখানেই প্রতি বছর রহস্যজনকভাবে বহু ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু ঘটছে। এই ঘটনায় এবার রাজস্থান সরকারের দিকে একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানতে চেয়েছে, শুধু কোটাতেই কেন এত পড়ুয়ার মৃত্যু হচ্ছে এবং এ বিষয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করছে? শুক্রবার ছাত্রমৃত্যুর একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই প্রশ্নগুলো উঠে আসে।

গত বছর কোটার একটি ঘর থেকে এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করা হয়, যিনি নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে কোটায় থাকতেন। এদিন সেই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জেবি পর্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজস্থান সরকারের প্রতিনিধিকে তীব্র প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে। আদালতের তরফে প্রশ্ন করা হয়, “এই বিষয়ে রাজ্যের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? পড়ুয়ারা কেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? শুধু কোটাতেই কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে?”

রাজ্যের তরফে জানানো হয় যে, পড়ুয়াদের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। উত্তরে শীর্ষ আদালত ফের প্রশ্ন করে, “এখনও পর্যন্ত কতগুলি পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে কোটায়?” রাজ্য জানায়, ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে, একাধিক ঘটনায় এফআইআর দায়ের না হওয়ায় এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। রাজস্থান সরকারের প্রতিনিধির কাছে আদালতের প্রশ্ন, “কেন এতগুলি পড়ুয়ার মৃত্যু হল? আদালতের রায়ের অবমাননা করা হয়েছে। কেন এফআইআর দায়ের করা হয়নি?” রাজস্থান সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয় যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইনস্টিটিউটের ঘর ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন পড়ুয়ারা।

শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের তরফে বলা হয়, “আমাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে, এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করা সংশ্লিষ্ট পুলিশের কর্তব্য ছিল। কিন্তু, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। আদালতের নির্দেশিকা মেনে চলা হয়নি।”

খড়গপুর আইআইটি-র ঘটনাতেও পুলিশের গাফিলতি
গত ৪ মে খড়গপুর আইআইটি-এর হোস্টেলের ঘর থেকে ২২ বছরের এক ছাত্রের দেহ উদ্ধার হয়। এদিন সেই মামলারও শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পর্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চে। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ৪ দিন পর অর্থাৎ ৮ মে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এদিন শুনানি চলাকালীন আদালত এই দেরি নিয়ে প্রশ্ন করে। আদালতে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের কাছে আদালতের প্রশ্ন ছিল, “মামলায় এফআইআর দায়ের করার জন্য কেন ৪ দিন সময় লাগল?”

পড়ুয়াদের মৃত্যুর মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘটনাগুলিকে কোনো মতেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, মার্চ মাসে এই সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তরফে রায়ে এই ধরনের ঘটনা রোধ করার জন্য পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য বোঝার জন্য একটি জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এদিন সেই রায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরে বিচারপতি জেবি পর্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ।

তবে, খড়গপুরের ঘটনায় পুলিশ ও আইআইটি কর্তৃপক্ষের তরফে দেওয়া তথ্যে শীর্ষ আদালত সন্তুষ্ট হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “বিষয়টি নিয়ে আদালত কঠোর পদক্ষেপ করতে পারত। এমনকি, সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করতে পারতাম।” এরপর সঠিক পথে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফে।