দিঘার সৌন্দর্যায়নে নতুন পদক্ষেপ, আর চরবে না গরু! ১ জুন থেকে কড়া প্রশাসন

দিঘার সমুদ্র সৈকত এবং নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির চত্বরে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু কিছু স্থানীয় বাসিন্দার অসচেতনতায় পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বিশেষ করে রাস্তায় গরুর অবাধ বিচরণের ফলে পরিবেশ নোংরা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছিল। এই সমস্যার সমাধানে এবার দিঘা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রামনগর ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক পূজা দেবনাথ জানিয়েছেন, “দিঘার সৌন্দর্যায়নের জন্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু স্থানীয় বাসিন্দা রাতের অন্ধকারে নিজেদের গরু রাস্তায় ছেড়ে দেন, যার জেরে সমুদ্র সৈকতসহ সৈকত শহর নোংরা হচ্ছে। এতে পর্যটন কেন্দ্রের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এলাকা।
এই সমস্যার মোকাবিলায় তাজপুর থেকে ওল্ড দিঘা, নিউ দিঘা সহ ওড়িশা সীমান্ত পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ১ জুন থেকে সমুদ্র সৈকত ও সংলগ্ন অঞ্চলে গরু চরানো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরিমানাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ে রামনগর এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি কক্ষে একটি বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দিঘা থানা, রামনগর থানা, দিঘা মোহনা থানার পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপকূলবর্তী এলাকার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত – পদিমা ১, পদিমা ২ ও তালগাছারী ২ অঞ্চলের প্রধানরাও আলোচনায় অংশ নেন।
রামনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই চরণ সার বলেন, “এখন থেকে আমরা মাইকিং-এর মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করব। ১ জুন থেকে কেউ যদি এই নিয়ম অমান্য করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি জরিমানাও করা হবে।”
প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপ দিঘার পরিবেশ উন্নত করতে এবং পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।