“সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ হোক..”- পাকিস্তানকে সমর্থনকারী তুরস্কের প্রতি ভারতের বার্তা

জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর জন্য আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সম্প্রতি আফগান মন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে আলাপকালে জয়শঙ্কর ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, কিছু মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ভারত সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে।
তুরস্ক সম্পর্কে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “আমরা আশা করি তুরস্ক পাকিস্তানকে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বন্ধ করার এবং কয়েক দশক ধরে আশ্রয় দেওয়া সন্ত্রাসবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একে অপরের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতার উপর নির্মিত। সেলেবির মামলাটি তুর্কি দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, তবে এই সিদ্ধান্তটি ডিজিসিএ (DGCA) নিয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
রণধীর জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেছেন যে, আগামী দিনগুলিতে ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের বিদেশ সফরের সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে তাদের মুখোশ খুলতে হবে।
সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল সম্পর্কে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “মোট সাতটি প্রতিনিধিদল রওনা হয়েছে। তিনটি প্রতিনিধিদল চলে গিয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক মিশন। আমাদের লক্ষ্য হল বিশ্বের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগ স্থাপন করা, যাতে আমরা এই বার্তা দিতে পারি যে ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই বিশ্ব সকল ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোক। আমরা বিশ্বের কাছে আবেদন করছি সীমান্ত পার সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে। যেসব দেশ গত ৪০ বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করছে, পাকিস্তানের কার্যকলাপ সামনে আনা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলার জন্য তাদের দায়ী করা উচিত।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় MEA মুখপাত্র বলেছেন যে ভারতের অবস্থান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা কেবল দ্বিপাক্ষিক পর্যায়েই হতে পারে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছে একমাত্র সমস্যা হল পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) ফিরিয়ে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যদি সেই সন্ত্রাসবাদীদের হস্তান্তর করতে চায় যাদের নাম ভারত বহু বছর আগে প্রকাশ করেছিল, তাহলে ভারত আলোচনার জন্য প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সন্ত্রাসবাদ এবং সংলাপ একসঙ্গে চলতে পারে না, সন্ত্রাসবাদ এবং বাণিজ্যও একসঙ্গে চলতে পারে না। সিন্ধু জল চুক্তি (IWT) সম্পর্কে মুখপাত্র আবারও পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এটি স্থগিত থাকবে।
ভারতের এই স্পষ্ট এবং কড়া বার্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের আপসহীন অবস্থানকে আরও একবার প্রমাণ করল।