পহেলগাঁও হামলার বদলা ‘অপারেশন সিঁদুর’! পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে ভারতের ৫টি বড় পদক্ষেপ

আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে, গত ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ তৃণভূমিতে ঘটে যাওয়া নৃশংস জঙ্গি হামলা গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই ঘটনায় ভারত চুপ থাকেনি; বরং পাকিস্তানের মাটিতে চালিয়েছে জোরালো ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান, যার মাধ্যমে ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। এরপর পাকিস্তানের পাল্টা হামলার চেষ্টাও ভারত সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

১.সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত:
পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পরপরই ভারত ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে। সিন্ধু নদের জলের উপর পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিকাজ নির্ভরশীল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য বড় সমস্যার সৃষ্টি করেছে। সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপে পাকিস্তানের মদত বন্ধ করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

২.পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার ও কূটনৈতিক কর্মী ছাঁটাই:
গত ২৩ এপ্রিল ভারত নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনে নিযুক্ত সমস্ত পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করে। একই সাথে, ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন তাদের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে এনেছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ কমানো এবং পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডের প্রতি ভারতের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করাই ছিল এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

৩.ভিসা প্রত্যাহার ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা:
২৭ এপ্রিল থেকে ভারত পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য জারি করা সমস্ত বৈধ ভিসা বাতিল করেছে। এর পাশাপাশি, সার্ক ভিসা প্রকল্পের অধীনেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের প্রতি ভারতের অনমনীয় মনোভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৪.আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ:
স্থলপথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে ভারত ১ মে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এটি দুই দেশের মধ্যে প্রধান স্থলপথে বাণিজ্য ও ভ্রমণের পথ ছিল। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ব্যাহত করা এবং পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া।

৫.’অপারেশন সিঁদুর’: সামরিক প্রত্যাঘাত:
সামরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায়। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটির উপর নির্ভুল হামলা চালানো হয়। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পহেলগাঁও হামলার জন্য দায়ী জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলিকে ধ্বংস করা এবং অসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়ানো। এটি ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ভারতের প্রত্যাঘাতের পর পাকিস্তান ৮, ৯ এবং ১০ মে ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণের চেষ্টা করে, যা ভারতীয় সেনা সফলভাবে প্রতিরোধ করে। এরপর দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়।

এই পাঁচটি পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান কঠোর এবং তারা নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।