CPIM নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে পাক গুপ্তচর ‘জ্যোতি মালহোত্রা’-র সম্পাদিত ছবি প্রকাশ্যে!

পাকিস্তানের গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার সঙ্গে সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের একটি সম্পাদিত ছবি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি আসল দাবি করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা হচ্ছিল, যেখানে বলা হচ্ছিল জ্যোতি মালহোত্রার সঙ্গে বাম নেতাদের সম্পর্ক রয়েছে। তবে, বুম (BOOM) নামক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা যাচাই করে দেখেছে যে, ছবিটি ভুয়ো এবং কারসাজির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
হরিয়ানার হিসার থেকে পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইউটিউবার ও নেটপ্রভাবী জ্যোতি মালহোত্রাকে গ্রেফতার করার পর থেকেই তাঁর কার্যকলাপ নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে থাকে। জানা যায়, ট্রাভেল ব্লগিংয়ের আড়ালে তিনি কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছেন। এই প্রেক্ষাপটেই সৃজন ভট্টাচার্য ও জ্যোতি মালহোত্রার এই সম্পাদিত ছবিটি ভাইরাল হয়।
একটি ফেসবুক ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “পাক গুপ্তচর জ্যোতি মালহোত্রা,,,,! এদেরকে চিনে রাখুন।” পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বুমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০ মে, ২০২৫ তারিখের একটি পোস্টে এই ভাইরাল ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই পোস্টে সৃজন ভট্টাচার্য জানান যে, তার সঙ্গে একজন এসএফআই (SFI) মহিলা কর্মীর ছবিতে কারসাজি করে জ্যোতি মালহোত্রার মুখ বসানো হয়েছে। তিনি এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করার কথাও উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তীতে আনন্দবাজার পত্রিকার ২০ মে-র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ছবিটি পূর্বাদ্রি পোদ্দার নামের বরাহনগরের এক এসএফআই কর্মীর সঙ্গে সৃজন ভট্টাচার্যের তোলা আসল ছবি থেকে সম্পাদিত হয়েছে। পূর্বাদ্রি পোদ্দারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও ২৩ এপ্রিল, ২০২৫-এ আপলোড করা আসল ছবিটি পাওয়া যায়, যা ভাইরাল ছবির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
এই সময়ের ইউটিউব চ্যানেলে পূর্বাদ্রি পোদ্দারের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, আলিপ সমাদ্দার নামক এক ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রথম এই সম্পাদিত ছবিটি পোস্ট করেন, যদিও পরে পোস্টটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। পূর্বাদ্রি আরও জানান, তার ও সৃজন ভট্টাচার্যের আসল ছবিটি ২০ এপ্রিল, ২০২৫-এ ব্রিগেডে সিপিএমের সমাবেশে তোলা হয়েছিল। তিনিও এই ঘটনা নিয়ে বরাহনগর থানার সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই ঘটনা আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা এবং ডিজিটাল কারসাজির বিপদকে সামনে এনেছে। ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভাইরাল ছবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। জনসচেতনতা এবং সঠিক তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এই ধরনের পরিস্থিতিতে অপরিহার্য।