জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতেই রহস্যময় বাক্সের হদিশ পেলেন দুই পর্বতারোহী, গুপ্তধনের সন্ধান?

চেক প্রজাতন্ত্রের কারকোনোশে পর্বতমালায় ট্রেকিং করতে গিয়ে দুই পর্বতারোহী অপ্রত্যাশিতভাবে এক বিশাল গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছেন। ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটি পাথরের খাঁজ থেকে উঁকি দেওয়া এক রহস্যজনক, চকচকে অ্যালুমিনিয়ামের বাক্স তাঁদের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে। বাক্স খুলতেই যা দেখলেন, তাতে তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ।

ঘটনাটি ঘটেছিল যখন দুই পর্বতারোহী, যারা নিজেদের নাম প্রকাশ্যে আনতে চাননি, জঙ্গলের মধ্য দিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পথ ধরে যাচ্ছিলেন। তখনই তাঁরা একটি বিশাল পাথরের খাঁজের মধ্যে থেকে বেরিয়ে থাকা একটি অ্যালুমিনিয়ামের বাক্সের সন্ধান পান। গুপ্তধনের আশায় বাক্স খুলতেই দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাস্য সব জিনিসপত্র। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হ্রাডেক্স ক্রালোয়ের ইস্ট বোহেমিয়া মিউজিয়ামের আর্কিওলজিক্যাল বিভাগের বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দেন। জাদুঘরের আর্কিওলজি বিভাগের প্রধান মিরোস্লাভ নোভাক নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো পূর্ব অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ওই দুই ভ্রমণকারী বিশেষজ্ঞদের কাছে এই অমূল্য সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বাক্সে শুধু একটি জিনিস নয়, ছিল একটি সম্পূর্ণ গুপ্তধন। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ১০টি সোনার ব্রেসলেট, ১৭টি সিগারের বাক্স, একটি পাউডার কমপ্যাক্ট, একটি চিরুনি এবং সবচেয়ে চমকপ্রদভাবে ৫৯৮টি সোনার মুদ্রা। শুধুমাত্র সোনার জিনিসগুলির ওজন ছিল প্রায় ৮ পাউন্ড, অর্থাৎ ৩.৭ কিলোগ্রাম। এই স্বর্ণমুদ্রাগুলির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৮০ লক্ষ চেক কোরুনা, যা প্রায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। বাক্সে পাওয়া সিগারের বাক্সগুলি এখনও খোলা হয়নি, সেগুলির ভিতরে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা এখনও জানা যায়নি।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই গুপ্তধন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। মুদ্রার উপর ১৯২১ সাল খোদাই করা থাকায় অনুমান করা হচ্ছে যে এটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো। মিরোস্লাভ নোভাকের বিশ্বাস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে অথবা ১৯৪৫ সাল নাগাদ এই গুপ্তধন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গুপ্তধনে পাওয়া একটি মুদ্রাও স্থানীয় নয়। অর্ধেকের বেশি মুদ্রা বলকান অঞ্চলের এবং বাকি মুদ্রাগুলি ফ্রান্সের। কিছু কিছু মুদ্রায় প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার চিহ্নও রয়েছে, যা ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে এই গুপ্তধনের মালিকানা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, কুকস এস্টেটের ধনী Svirts-Shpork পরিবারই এই গুপ্তধনের মালিক ছিল। আবার কেউ কেউ দাবি করেন যে, চেকোস্লোভাক সৈন্যরা এগুলি লুঠ করেছিল।

বন্ধ থাকা সিগারের বাক্স খোলার পর এবং অন্যান্য সামগ্রীর ধাতব অংশ পরীক্ষা করেই এর আসল মূল্য ঠাহর করা সম্ভব হবে। চেক আইন অনুযায়ী, এই গুপ্তধন আসলে স্থানীয় প্রশাসনের সম্পত্তি। তবে, এর মূল্যের উপর ভিত্তি করে ওই দুই পর্বতারোহী পুরস্কারও পাবেন।