৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের! কোন মামলায়?

১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে ওয়াটগঞ্জ থানার রামকমল স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া জোড়া খুন ও এক ব্যক্তিকে আহত করার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শঙ্কর সুন্দর দত্ত ওরফে টুটি-কে জেলমুক্তির নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রায় তিন দশক পুরোনো একটি মামলার নতুন মোড়।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শঙ্করকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে। মামলার বয়ান অনুসারে, প্রায় ২৮ বছর আগের এই ঘটনায় শঙ্কর সহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের ৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার পর ২০০১ সালে নিম্ন আদালত সকল অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দেয়। কিন্তু পরের বছর তৎকালীন রাজ্য সরকার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। ফলস্বরূপ, ২০০৬ সালে শঙ্কর ওরফে টুটি সহ সকল অভিযুক্তকে জোড়া খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাস এবং ৫০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পরের বছরই শঙ্কর সহ তিনজন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি। এরপর শঙ্কর বারবার সাজা কমানোর আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানাতে থাকেন। তিনি সেনটেন্স রিভিউ বোর্ডের (Sentence Review Board) কাছেও আবেদন জানান, কিন্তু ২০২১ সালে তাঁর আর্জি প্রত্যাখান করা হয়। অবশেষে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন শঙ্কর।
শঙ্করের আবেদনের মূল যুক্তি ছিল যে, তিনি ২০০৬ সাল থেকে জেলবন্দি রয়েছেন, অর্থাৎ প্রায় ২১ বছর জেলে কাটিয়েছেন। জেলে তাঁর ব্যবহার সন্তোষজনক এবং এখনও পর্যন্ত মোট ১২ বার তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও ২০২০ সালে রিভিউ বোর্ডের কাছে তাঁর আর্জি খারিজ হয়েছিল, পরবর্তীতে বোর্ড তাঁর আবেদন গ্রহণ করে।
শঙ্করের এই আবেদনের ভিত্তিতে তাঁর যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা কমিয়ে ২১ বছর করা হয়। এই রায় দেওয়ার পরই হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আলিপুর আদালতের বিচারকের কাছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শঙ্করকে মুক্তির জন্য নির্দেশ দেন। নিম্ন আদালতের তরফ থেকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করা হবে।
জানা গেছে, ৯৭ সালের এই জোড়া খুন কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত শঙ্কর তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার একমাত্র সন্তান। বাবার বয়স ৮৪ এবং মায়ের বয়স ৭৪ বছর, দুজনেই অসুস্থ। দীর্ঘ ২১ বছর জেল খাটার পর এবার তাঁদের একমাত্র ছেলেকে জেলমুক্তির নির্দেশ দেওয়া হল, যা পরিবারে স্বস্তি এনে দিয়েছে।