হাতে রুদ্রাক্ষের মালা-মুখে ধর্মীয় উপদেশ, সাধু সেজে বাড়িতে প্রবেশ! তারপর যা হলো?

সাধুর বেশে বাড়িতে ঢুকে অভিনব কায়দায় চুরির অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম হাদিস লাঠোর, মনোজ লাঠোর, ছোটু লাঠোর এবং নেতা লাঠোর। জানা গেছে, এরা সকলেই বিহারের গয়ার বাসিন্দা এবং বিভিন্ন জায়গায় সাধু সেজে ঘুরে বেড়িয়ে এমন প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। গত মঙ্গলবার (২০ মে) হাওড়া ময়দানের রামেশ্বর মালিয়া ফার্স্ট বাই লেনে এই ঘটনা ঘটে।
যেভাবে ঘটলো চুরি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ পিন্টু শর্মার বাড়ির আশপাশে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের পরনে ছিল সাধুর পোশাক এবং হাতে রুদ্রাক্ষের মালা। মুখে শোনা যাচ্ছিল ধর্মীয় উপদেশ। পিন্টু শর্মার স্ত্রী মমতা এই দৃশ্য দেখে কিছুটা চমকে যান। অভিযুক্তরা এরপর মমতাকে তাদের ঘরে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। মমতা বারবার তাদের চলে যেতে বললেও, ভুয়ো সাধুরা মমতার কপালে কিছু একটা ঠেকিয়ে দেয়। এরপর থেকেই মমতা তাদের কথা মতো কাজ করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
মমতা শর্মা পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই ‘ভন্ড’ সাধুদের বিশ্বাস করে তিনি তাদের ঘরে ঢুকতে দেন এবং কিছু খেতেও দেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা মমতার সোনার হার ও মঙ্গলসূত্র খুলে একটি কাপড়ের মধ্যে রাখতে বলে। তারা জানায়, সন্ধ্যায় ওই গয়না দ্বিগুন হয়ে যাবে এবং তার আগে যেন ঢাকা দেওয়া কাপড় না খোলা হয়। এই ফাঁকে মমতা অন্যমনস্ক হতেই চারজন গয়না হাতসাফাই করে চম্পট দেয়।
পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেফতারি
গয়না খোয়া যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেই পিন্টু শর্মা দ্রুত হাওড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে চার অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে। ফুটেজে দেখা যায়, তারা হাওড়া ময়দানের বঙ্গবাসী মোড় থেকে বাসে উঠছে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে হাওড়া থানার তদন্তকারী দল দক্ষিণেশ্বরে হানা দেয়। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা এর আগেও বহু জায়গায় একই কায়দায় প্রতারণা করেছে। এই চক্রের পেছনে আরও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনা আবারও সাধুবেশে প্রতারকদের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল।