“ও কোনও খুন করেনি, জঙ্গিও নয়”- সুপ্রিমকোর্টে প্রাক্তন ট্রেনি IAS পূজার আগাম জামিন মঞ্জুর

অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন বিতর্কিত প্রাক্তন ট্রেনি আইএএস অফিসার পূজা খেদকর। বুধবার তার আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত। এই নির্দেশের ফলে, দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও ৩৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তিনি জামিন পাবেন। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট পূজা খেদকরের আগাম জামিন নাকচ করে দিয়েছিল।
২০২২ সালে সিভিল সার্ভিসে সুযোগ পেতে অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পূজা খেদকরের বিরুদ্ধে। তার এই মিথ্যাচার প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। অভিযোগ ছিল, সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফর্মে নিজেকে ‘বিশেষ ভাবে সক্ষম’ বলে দাবি করেছিলেন। এমনকি, জাল ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেটও বানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যার মূল লক্ষ্য ছিল সংরক্ষিত কোটার সুযোগ নেওয়া।
জানা গেছে, সিভিল সার্ভিসে সুযোগ পাওয়ার পরেও পূজা ৬ বার মেডিক্যাল টেস্ট এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পূজার কারসাজি ফাঁস হতেই শুরু হয় তদন্ত। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে কেন্দ্র তাকে বরখাস্ত করে। তদন্তে উঠে আসে যে, ২০২২ সালে পুনের এক হাসপাতালে প্রতিবন্ধকতার শংসাপত্র চেয়ে দরখাস্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু শারীরিক পরীক্ষা করার পর তার আবেদন খারিজ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে, ইউপিএসসি-তে সুযোগ পেয়েও পরে ফর্মে করা দাবি মতো শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কোনো সার্টিফিকেট তিনি দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরের বাসিন্দা পূজার বাবা ও দাদুও আইএএস অফিসার। পূজা প্রথমে মেডিক্যালে ভর্তি হন এবং এমবিবিএস পাশ করেন। এরপর পরিবারের ঐতিহ্য বজায় রেখে আইএএস হওয়ার জন্য ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন। শিক্ষানবিশ থাকাকালীন পূজার বিরুদ্ধে লালবাতি গাড়ি ব্যবহার-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল।
এদিন আগাম জামিনের আবেদন গ্রহণ করলেও আদালত পূজাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছিল যে, প্রাক্তন এই আইএএস শিক্ষানবিশ তদন্তে সহযোগিতা করছেন না, এবং এই যুক্তিতেই তার জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরথনা এদিন প্রশ্ন তোলেন, “সহযোগিতা না করার অর্থ কী? তিনি তো কোনো খুন করেননি! এটা তো কোনো এনডিপিএস (মাদক বিরোধী আইন) অপরাধ নয়। তিনি কোনো ড্রাগ মাফিয়া বা সন্ত্রাসবাদী নন। ওঁর এমনিই চাকরি চলে গিয়েছে। সব হারিয়েছে। এখন অন্য কোথাও চাকরিও পাবে না।” একইসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “জাল সার্টিফিকেটের তদন্তের জন্য তাকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই।” এই মর্মেই বিচারপতি বিভি নাগরথনা এবং সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে পূজা খেদকর জামিন পেলেন।
এই রায় একদিকে যেমন অভিযুক্তের স্বাধীনতা রক্ষা করল, তেমনই আদালতের মানবিক দিকটি তুলে ধরল, যেখানে অপরাধের প্রকৃতি এবং ব্যক্তির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।