৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরির ভবিষ্যৎ কি বাতিলের দিকেই যাচ্ছে? জেনেনিন বিস্তারিতভাবে

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া যেন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরে হাজার হাজার চাকরি ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে দুর্নীতির কারণে। এবার প্রাথমিক স্তরের নিয়োগ নিয়েও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমেছে। ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে হাইকোর্টে চলমান মামলায় সম্প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে আসায় প্রশ্ন উঠছে—৩২,০০০ চাকরির ভবিষ্যৎ কি তবে বাতিলের দিকেই যাচ্ছে?
আদালতের পর্যবেক্ষণ কী বলছে?
২০ মে কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তোলেন—কীভাবে কিছু অযোগ্য প্রার্থী TET পাস না করেও নিয়োগ পেলেন? আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক অসঙ্গতির কথা—
ভুল মেধা তালিকা প্রকাশ
ইচ্ছামতো ইন্টারভিউ নম্বর দিয়ে প্রার্থীদের উপরে তোলা
OMR স্ক্যানিংয়ে ত্রুটি
এমনকি TET না পাস করেও চাকরি পাওয়া
এইসব অনিয়ম তদন্তে উঠে আসার পরই আদালত রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। এমনকি মামলায় অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন আবেদনকারী সরাসরি এই নিয়োগ বাতিলের দাবিও তুলেছেন।
সরকার ও পর্ষদের অবস্থান
সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা দাবি করছেন, “সব নিয়োগ নয়, শুধুমাত্র সন্দেহজনক নিয়োগগুলিতেই তদন্ত চলছে।” তবে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও আগ্রহ দেখে অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি ক্রমেই বৃহত্তর পরিসরে গড়াচ্ছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা দপ্তর ও WBBPE-এর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং তথ্য গোপনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের পরিধিও বাড়ছে। নিয়োগে স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকলে আদালতের তরফে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে, এমনটা বলছেন শিক্ষাবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা।
সম্ভাব্য প্রভাব
যদি এই ৩২,০০০ চাকরি বাতিল হয়, তবে তা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নয়, তাদের পরিবারের উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। সমাজে বেকারত্ব আরও বাড়বে এবং গোটা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অনেকেই মনে করছেন, একসঙ্গে এত বড় নিয়োগ বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষা খাতে এক অচিন্তনীয় সংকট দেখা দিতে পারে।
উপসংহার
বর্তমানে এই মামলার চূড়ান্ত রায় আসা বাকি থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। মাধ্যমিকের পর এবার প্রাথমিক স্তরেও যে বড়সড় সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে, তা প্রায় নিশ্চিত। ৩২,০০০ চাকরি বাতিল হবে কিনা, তা ভবিষ্যতের রায়ে নির্ভর করলেও, ইতিমধ্যেই এই মামলার গুরুত্ব ও প্রভাব রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।