শ্বশুর-শাশুড়ির সম্পত্তিতে কি অধিকার রয়েছে পুত্রবধূর? জেনে নিন, আইন কী বলছে

ভারতীয় সমাজে বিয়ের পর পুত্রবধূরা শ্বশুরবাড়িকেই নিজেদের ঠিকানা হিসেবে মেনে নেন। স্বামী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে তাঁদের জীবন আবর্তিত হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শ্বশুর-শাশুড়ির সম্পত্তিতে একজন পুত্রবধূর কি আইনি অধিকার আছে? এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। ভারতীয় আইন এই বিষয়ে কী বলছে, তা বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

শ্বশুর-শাশুড়ির স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে পুত্রবধূর অধিকার
আইন অনুযায়ী, যদি শ্বশুর-শাশুড়ি নিজেদের উপার্জিত অর্থে সম্পত্তি কেনেন, তবে সেই সম্পত্তির উপর পুত্রবধূর কোনো সরাসরি অধিকার থাকে না। অর্থাৎ, এই ধরনের সম্পত্তির মালিকানা সম্পূর্ণরূপে শ্বশুর-শাশুড়ির। তবে, তাঁরা যদি চান, তাহলে উইলের মাধ্যমে নিজেদের সম্পত্তি পুত্রবধূ বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দিতে পারেন। এটি সম্পূর্ণভাবে তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং আইনত তাঁরা এর জন্য বাধ্য নন।

যদি শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁদের স্ব-অর্জিত সম্পত্তি পুত্রবধূকে দিতেও চান, তবে সেই অধিকার সাধারণত স্বামীর মাধ্যমেই আসে। স্বামী যদি তাঁর সম্পত্তির অধিকার স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন, অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর পুত্রবধূ তাঁর স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন, তবেই এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। যদি শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁদের স্ব-অর্জিত সম্পত্তি পুত্রবধূকে দিতে না চান, তবে পুত্রবধূ সেই সম্পত্তির উপর কোনো রকম দাবি করতে পারবেন না।

পৈতৃক সম্পত্তিতে পুত্রবধূর দাবি
পৈতৃক সম্পত্তির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আইন অনুযায়ী, যদি পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি থাকে, তবে পুত্রবধূর সেই সম্পত্তি দাবি করার অধিকার থাকতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে। একজন পুত্রবধূ মূলত দুটি পরিস্থিতিতে শ্বশুরবাড়ির পৈতৃক সম্পত্তিতে অংশ পেতে পারেন:

১. যখন স্বামী তাঁর অংশ হস্তান্তর করেন: প্রথম পরিস্থিতি হলো, যখন স্বামী তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করেন।
২. স্বামীর মৃত্যুর পর: আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি হলো, স্বামীর মৃত্যুর পর একজন পুত্রবধূ তাঁর স্বামীর অংশের পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি করতে পারেন।

সুতরাং, সংক্ষেপে বলা যায় যে, পুত্রবধূর শ্বশুরবাড়ির স্ব-অর্জিত সম্পত্তির উপর কোনো আইনি অধিকার নেই, কিন্তু তিনি পৈতৃক সম্পত্তির উপর নির্দিষ্ট শর্তে অধিকার দাবি করতে পারেন। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা পারিবারিক বিরোধ এড়াতে এই আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।