আর কতদিন চলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা প্রদানে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এবার এই প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ শুধুমাত্র কিছুদিনের জন্য নয়, “চলবে সারাজীবন।”
সম্প্রতি একটি প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এই প্রকল্প শুধুমাত্র ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ‘সারা পৃথিবীতে প্রথম আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছি’— এমনই মন্তব্য করেন তিনি।”
উল্লেখ্য, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে শুরুতে সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলারা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে পেতেন, এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পেতেন ১০০০ টাকা। পরে মুখ্যমন্ত্রী এই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলারা ১০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকা করে পাচ্ছেন। সরকারের বেশ কিছু প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পের উপভোক্তারাও সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে থাকেন।
এই প্রকল্প যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোটবাক্সে সাফল্য এনে দিয়েছে, তা অনস্বীকার্য। রাজ্য সরকারের সবকটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে জনপ্রিয়তার নিরিখে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বর্তমানে প্রথম স্থানে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, “অনেকে এখন নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বলছে এত টাকা দেবে, ওত টাকা দেবে। কিন্তু এতদিন দিল না কেন? ভোট এলেই কথা বলে, পরে ভুলে যায়। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব পালন করি। কখনো কথা থেকে সরিনি।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জোর দিয়ে বলেন, “‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ আমাদের গর্বের প্রকল্প। নারীদের সম্মানের প্রতীক।” তাঁর এই ঘোষণা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা উপভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।