এশিয়া জুড়ে বাড়ছে কোভিড, ভারতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্কতা জারি

কোভিড-১৯ কি আবার ফিরে আসছে? এমন উদ্বেগ এখন এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশকে গ্রাস করছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। সম্প্রতি ভারত, হংকং এবং সিঙ্গাপুরে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা ন্যূনতম এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
ভারতে কোভিডের সংক্রমণ কতটা?
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মে থেকে এখনও পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৬৪ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে সারা দেশে মোট ২৫৭ জন সক্রিয় কোভিড রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে কেরালায় ৬৯ জন, মুম্বাইতে ৪৪ জন এবং তামিলনাড়ুতে ৩৪ জন আক্রান্ত। এই সংখ্যাটি দেশের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম, তাই কেন্দ্র জানাচ্ছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
সিঙ্গাপুরের কোভিড পরিস্থিতি
ভারতের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, হংকং এবং সিঙ্গাপুরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরে বর্তমানে ১৪,২০০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত। ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐ সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুরে নতুন করে ১১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, যা সংক্রমণের হারকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
হংকংয়ের পরিস্থিতি
গত ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে হংকংয়ে কোভিডের সংখ্যা হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে হংকংয়ে ঠিক কতজন আক্রান্ত, তার সঠিক খবর এখনও জানা যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি
দক্ষিণ কোরিয়ায় যাতে কোভিড নতুন করে থাবা বসাতে না পারে, তার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের আগেভাগে টিকা দেওয়ার বিষয়ে বারবার আবেদন জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কোভিডের এই বৃদ্ধির পেছনে জনসংখ্যার প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার দায়ী হতে পারে। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে LF.7 এবং NB.1.8 – দুটি JN.1 ভ্যারিয়েন্টের উপ-বংশ – সেখানে প্রধান সার্কুলেটিং ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে দায়ী। যদিও ভারতে JN.1 ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই, তবুও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।