“SSC-র চাকরিহারা গ্রুপ C, গ্রুপ D-দের ভাতা কেন?”-রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হাইকোর্টে

চাকরিহারা অশিক্ষক কর্মীদের ভাতা দেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বঞ্চিত নিয়োগপ্রার্থীরা। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছেন, যা বৃহস্পতিবারই (২২ মে, ২০২৫) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্য সরকার কর্তৃক গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য ভাতা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সোমবার (১৯ মে, ২০২৫) প্রকাশ করা হয়েছিল। এর ঠিক পরের দিনই, মঙ্গলবার (২০ মে, ২০২৫) রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে গেলেন বঞ্চিত নিয়োগপ্রার্থীরা।
এপ্রিল মাসের হিসেব অনুযায়ী, গ্রুপ সি কর্মীরা মাসিক ২৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন, এবং গ্রুপ ডি কর্মীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা করে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার জানিয়েছিল। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লেবার ডিপার্টমেন্টের অধীনে একটা স্কিমের অধীনে ২০২৫-এর ১ এপ্রিল থেকে গ্রুপ সি ২৫ হাজার ও গ্রুপ ডি ২০ হাজার টাকা করে পাবে’।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ‘West Bengal Livelihood And Social Security Fund’ নামে একটি বিশেষ ফান্ড তৈরি করা হয়েছে এই উদ্দেশ্যে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেখানেই ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও আদালতের নির্দেশ
ভাতা ঘোষণার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “এখানে কিছু লোক আছে যাঁরা কথায় কথায় পিল খায় আর কিল মারে। চাকরি দেওয়ার মুরোদ নেই কিল মারার গোসাঁই! আমরা ওয়েস্টবেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি ইন্টারিম স্কিমের মাধ্যমেই চাকরি হারানো গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের অনুদান দেব।”
উল্লেখ্য, স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া ২৬ হাজার কর্মীর চাকরি বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী উভয়ই রয়েছেন। রাজ্য সরকারের আর্জিতে সাড়া দিয়ে আদালত জানিয়েছে, পুনর্বিবেচনার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাকরি হারানো শিক্ষকেরা স্কুলে যেতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে সেই অনুমোদন আদালত দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সে কারণেই বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্ট এই নতুন আবেদনের ওপর কী নির্দেশ দেয় এবং এই ভাতার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।