অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির রক্ষায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, পাক হামলা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ!

পাকিস্তানের সম্ভাব্য ড্রোন হামলা থেকে অমৃতসরের পবিত্র স্বর্ণমন্দিরকে রক্ষা করার জন্য এবার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ মে, ২০২৫) এই তথ্য জানিয়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনার আধিকারিক লেফটেন্যান্ট সুমের ইভান ডিকুনহা। এই পদক্ষেপকে স্বর্ণমন্দির কর্তৃপক্ষের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট ডিকুনহা বলেন, “স্বর্ণমন্দির কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। পাক হামলা রুখতে স্বর্ণমন্দিরের কর্তৃপক্ষের তরফে আমাদের অনুমতি দেওয়া হয় ওই চত্বরে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র মজুত রাখার। শুধু তাই নয়, স্বর্ণমন্দিরের ইতিহাসে বোধহয় প্রথমবার মন্দিরের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় যাতে হামলা চালাতে আসা ড্রোনগুলি আমরা দেখতে পাই।”

ডিকুনহা আরও জানান, “স্বর্ণমন্দিরে যে হামলা হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা আমাদের তরফে জানানো হয়েছিল মন্দির কর্তৃপক্ষকে। এখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী আসেন। তাঁদের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই তীর্থস্থান রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করার অনুমতি দেওয়া হয় মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে।”

এর আগে, গত ৮ মে রাতে স্বর্ণমন্দির লক্ষ্য করে পাক সেনা ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৫ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল কার্তিক সি শেষাদ্রি। তিনি বলেছিলেন, “ভারতের সাধারণ নাগরিক ও জনপ্রিয় পর্যটনস্থলকে যে নিশানা করা হবে তা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। তাই স্বর্ণমন্দিরকে রক্ষা করতে আগে থেকে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছিল। ৮ মে রাতে সেখানে পাকিস্তান হামলা শুরু করলে তা রুখে দেওয়া হয়। গুলি করে নামানো হয় একাধিক পাক ড্রোন। পবিত্র স্বর্ণমন্দিরে একটা আঁচড় পর্যন্ত পড়তে দেয়নি সেনাবাহিনী।”

স্বর্ণমন্দিরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কেবল পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলির সুরক্ষায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও তুলে ধরবে।